মুর্শিদাবাদের জেলা কংগ্রেস দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে এদিন অধীর বলেন, ‘বিজেপি বিরোধী জোটের জন্য নবান্নে এসে বৈঠকের কোনও প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি না। দুটি দলই কংগ্রেসকে খতম করার চেষ্টা করছে। আপ, তৃণমূল কেউই বিজেপি বা নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে মুখ খোলে না। বিজেপির সঙ্গে দুই দলেরই বোঝাপড়া রয়েছে। আজ তারা বিজেপি বিরোধী জোটের জন্য বৈঠক করছেন।’
মমতা ও কেজরিওয়ালকে একযোগে আক্রমণ করেছেন বহরমপুরের সাংসদ। অধীর বলেন, ‘মমতা ও কেজরিওয়াল দুজনেই বিজেপির সঙ্গে হিন্দুত্বের প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূল ও আপের লক্ষ্য কংগ্রেসকে দুর্বল করে নিজেদের শক্তিশালী করা। বিজেপির সঙ্গে নরমে গরমে চলে এই দুই দল। কখনও সংঘাতে জড়ায় না। কর্নাটকে ২০০ আসনে আপ লড়েছে, কংগ্রেসকে কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ আসনে হারিয়েছে। কর্নাটক ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। কী বিজেপির বিরুদ্ধে এঁরা লড়বে! কর্নাটক নির্বাচনের পর মানুষ মোদীর পরিবর্তন চাইছেন। মানুষ যখন এই সরকার নিয়ে বীতশ্রদ্ধ, তখন এটা স্পষ্ট কংগ্রেসের নেতৃত্ব ছাড়া বিরোধী জোট সম্ভব নয়।’
অধীরের দাবি ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেক আগে মমতা কেজরিওয়াল দর কষাকষি করছে। তিনি বলেন, ‘ মানুষ কংগ্রেসকেই বেছে নিয়েছে। সব বুঝে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দর কষাকষি করে নিজেদের ক্ষমতা বাড়িয়ে রাখতে চাইছেন। তাই মহাজোটের জন্য নবান্নে এসে বৈঠকের কোনও প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা। এটা এক ধরনের নাটক হচ্ছে।’
অন্যদিকে নবান্নে বৈঠকের পর একযোগে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেছেন মমতা ও কেজরিওয়াল। দিল্লির সরকারের রাশ ধরে রাখা নিয়ে কেন্দ্রের তরফে যে অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছে, রাজ্যসভায় একযোগের তার বিরোধিতা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দুই মুখ্যমন্ত্রী। আগামী নির্বাচনের পর কেন্দ্রে এই সরকার আর থাকবে না বলেও দাবি করেন মমতা কেজরিওয়াল।