গোরু পাচার, কয়লা পাচার, নিয়োগ দুর্নীতি সহ একাধিক দুর্নীতি মামলায় তৎপরতা বাড়াচ্ছে ইডি। সম্প্রতি নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ‘কালীঘাটের কাকু’ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে গ্রেফতার করেছে ইডি। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হঠাতই কলকাতা সফরে এলেন ইডি অধিকর্তা সঞ্জয় কুমার মিশ্র। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা বিমানবন্দরে নামে তিনি।

শুক্রবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের ED দফতরে এসে পৌঁছন ইডি অধিকর্তা। বিভিন্ন দুর্নীতির তদন্তে অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন তিনি। ইডি সূত্রে খবর, কয়লা পাচার, গোরু পাচার, নিয়োগ দুর্নীতির মতো বড় বড় দুর্নীতির শিকড় কত গভীর অবধি বিস্তৃত সেই নিয়ে কলকাতার শীর্ষ ইডি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন সঞ্জয়।

Kalighater Kaku Arrest : ইডি আধিকারিকদের সামনে ‘চিৎকার’, তদন্তে অসহযোগিতা! কেন গ্রেফতার ‘কালীঘাটের কাকু’?
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই বৈঠকে থেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের বিভিন্ন বিষয়ে গাইডলাইন দেবেন ইডি অধিকর্তা। বিভিন্ন দুর্নীতির তদন্তে যুক্ত ED-র তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গেও তদন্তে অগ্রগতির বিষয়ে কথা বলতে পারেন তিনি, ,এমনটাই সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। শনিবার কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে কেন্দ্রীয় আয়কর বিভাগের কর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেবেন ইডি অধিকর্তা।

Kalighater Kaku Manik Bhattacharya : পর্ষদ অফিসে বসেই নিয়োগ দুর্নীতির ছক মানিক-সুজয়কৃষ্ণের, দাবি ইডির
দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর, মঙ্গলবার নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকুকে গ্রেফতার করে ইডি। মূলত তদন্তে অসহযোগিতা ও প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার কারণে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ইডি সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন সুজয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়, নিয়োগ দুর্নীতির পিছনে কোনও প্রভাবশালীর মাথা রয়েছে কি না। কিন্তু গোটা বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান বলে জানা গিয়েছে। সুজয়কৃষ্ণের বাজেয়াপ্ত করা মোবাইল থেকে বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ ইডির হাতে এসেছিল। সেই নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।

অন্যদিকে ইডি সূত্রে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত পলাশিপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের সঙ্গেও সুজয়কৃষ্ণের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে হয়েছে। ইডির আইনজীবীদের দাবি, মানিকের অফিসে মাঝেমধ্যেই কালীঘাটের এই কাকুকে দেখা যেত।

Kalighater Kaku Name: অবশেষে ভাঙলেন ‘হাঙ্গার স্ট্রাইক’! কালীঘাটের কাকু-র বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
মানিকের সঙ্গে সুজয়কৃষ্ণর নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট হত বলেই জানা গিয়েছে। কিন্তু সেই চ্যাটের অধিকাংশ সুজয়কৃষ্ণ মুছে ফেলেছেন বলে আদালতে দাবি করেন ইডির আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি। ইডির আইনজীবীর দাবি, ওই হোয়াটস্যা চ্যাটেও চাকরিপ্রার্থীদের বিভিন্ন নথি ছিল বলেই জানা গিয়েছে। রাহুল বেরা নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার সুজয়কে তথ্য মুছে ফেলার কাজে সাহায্য করেছে বলে দাবি ইডির। এখন তদন্ত কোন দিকে যায় সেটাই দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version