এই সময়: গত এক সপ্তাহ ধরে কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় দাবদাহ চলছে। গরমের মধ্যে সাধারণ মানুষের যন্ত্রণা আরও বাড়িয়েছে বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকা। শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ, শহরতলি এমনকী মধ্য হাওড়াতেও গত কয়েক দিন ধরে বারে বারে বেশ কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ছিল না বেলঘরিয়ার একাংশে। সেদিনই রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ বিদ্যুৎ চলে যায় বেহালার বিভিন্ন এলাকায়। প্রায় চার ঘণ্টা পরে বিদ্যুৎ আসে। অভিযোগ, বারে বারে সিইএসসির হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিদ্যুৎ সরবরাহ চলে যাওয়ার অভিযোগ নথিভুক্ত করার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।

Kolkata Fire News: ফের কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড, গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউয়ের বহুতলে ভয়াবহ আগুন
ফোনে সিইএসসির কল সেন্টারেও অভিযোগ জানানো যায়নি। এমনকী, সিইএসসির তরফে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হলে গ্রাহকদের যে এসএমএস পাঠানো হয়, তা-ও গ্রাহকরা পাননি।

এ ব্যাপারে সিইএসসির এগজ়িকিউটিভ ডিরেক্টর অভিজিৎ ঘোষ বলেন, “এখন হিটওয়েভ চলছে। বহু মানুষ আমাদের আগাম না জানিয়ে অতিরিক্ত লোড ব্যবহার করছেন। সিস্টেমে একটা প্রোটেকশন থাকে। অতিরিক্ত লোড হলে প্রোটেকশন সিস্টেম নিজে থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। সেই কারণেই গত কয়েক দিনে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।”

Assam Electricity Bill : অসমে বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির পথে সরকার, মাথায় হাত সাধারণ মানুষের!
সিইএসসির হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার বিষয় নথিভুক্ত না করতে পারা বা কল সেন্টারের নম্বর না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার বিষয় নথিভুক্ত না করতে পারা বা কল সেন্টারের নম্বর না পাওয়ার অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। বরং, ওই দুই মাধ্যমে আমরা গত কয়েক দিনে প্রচুর অভিযোগ পেয়েছি।”

প্রশ্ন উঠেছে, যদি কল সেন্টারে কলই না ঢোকে, তাহলে লোকে সেই অভিযোগই বা জানাবেন কেমন করে?

গত শুক্রবার থেকে প্রবল বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্মুখীন মধ্য হাওড়ার কাসুন্দিয়া, কদমতলা, ব্যাঁটরা, নেতাজি সুভাষ রোড ও শিবপুরের একাংশের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দিনে অন্তত চার থেকে পাঁচ দফায় বিদ্যুৎ চলে যায় এবং প্রত্যেক দফায় অন্তত এক ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে। রবিবার কাসুন্দিয়াতে স্থানীয় মানুষরা সিইএসসির গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান।

Plastic Ban : প্লাস্টিক ব্যবহার রুখতে প্রতিযোগিতা আয়োজন কলকাতা পুরসভার
ইএম বাইপাস সংলগ্ন পূর্বালোক, অহল্যানগর, গঙ্গানগর ও সন্তোষপুরের কিছু অংশে রবিবার রাতে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে যায়। পূর্বালোকে রবিবার রাত সাড়ে ৩টের সময় বিদ্যুৎ যাওয়ার পর সরবরাহ স্বাভাবিক হয় সোমবার বিকেল ৩টে নাগাদ। সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ সিইএসসি পূর্বালোকে দুটি জেনারেটার নিয়ে আসে। তাতেও সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় বহু বাড়িতে পাম্প চলেনি। ফলে, প্রচণ্ড গরমে ওই এলাকার বাড়িগুলিতে জলের বিরাট সমস্যা দেখা দেয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version