আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস ছিলই। সেই অনুযায়ী সোমবার বিকেল গড়াতেই কলকাতার আকাশে কালো মেঘ। মুহূর্মুহু বজ্রপাতের সঙ্গেই শুরু হল তুমুল বৃষ্টিপাত। দোসর ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। ফলে দিনভর ভ্যাপসা গরম থেকে রেহাই পেল তিলোত্তমাবাসী।

দক্ষিণবঙ্গে এখনও বর্ষা প্রবেশ না করলেও সোমবার সকাল থেকেই কলকাতা সহ সংলগ্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই শহরের ক্ষুব্ধ শহরবাসী।

Kolkata Weather : সকাল থেকেই দু’এক পশলা, বেলা গড়াতেই ঝেঁপে বৃষ্টি কলকাতায়
দক্ষিণবঙ্গে কবে শুরু হবে বর্ষার বৃষ্টি? এ প্রসঙ্গে এই সময় ডিজিটালকে আবহাওয়াবিদ ড. সুজীব কর বলেন, “এটা বর্ষার বৃষ্টি নয়। এ রাজ্যে বর্ষার বৃষ্টি জুন মাসের ২০-২২ তারিখের আগে শুরু হবে না। কলকাতা সহ দুই ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই বর্ষার বৃষ্টি শুরু হবে আগামী মাসের ৪-৫ তারিখ।”

Rainfall Forecast : অবশেষে ভ্যাপসা গরম থেকে মুক্তি! রবিবার ঝেঁপে বৃষ্টি কলকাতায়
কলকাতায় কতদিন চলবে এই বৃষ্টিপাত? এ প্রশ্নের জবাবে ড. সুজীব কর বলেন, “আরব সাগরে উৎপন্ন ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয়ের কারণে এ রাজ্যের দিকে বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয়েছে। ফলে কলকাতা সহ আশপাশের এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। গোটা মাস জুড়েই কলকাতায় বজ্রপাত সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। কিন্তু, তার সঙ্গে তাপমাত্রাও ঊর্ধ্বমুখীই থাকবে। বজায় থাকবে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও।”

রবিবার কলকাতায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি বেশি। সোমবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি বেশি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৫১ থেকে ৮৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

Kolkata Rain : বৃষ্টির ট্রেলারেই জল থইথই কলকাতা, শহরবাসীর মুখে ‘বর্ষা আভি বাকি হ্যায়’
এদিকে, সোমবারই উত্তরবঙ্গে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। রবিবার থেকেই উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা অর্থাৎ দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে শুরু হয়েছিল বৃষ্টি। সোমবার থেকে বেড়েছে সেই বৃষ্টির পরিমাণ। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তুমুল বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে ড. সুজীব করের কথায়, “উত্তরবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করেছে মনে হলেও এটি ঠিক বর্ষার বৃষ্টি নয়। প্রকৃত বর্ষার বৃষ্টি হবে ২০-২২ জুন থেকে।”

আরব সাগরে ফুঁসছে ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয়। আগামী ১৫ জুন এটি আছড়ে পড়তে পারে পাকিস্তানের করাচি এবং গুজরাটের মধ্যবর্তী মান্ডবি উপকূলে। ল্যান্ডফলের সময় ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয়ের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মূলত পড়বে মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কেরালা এবং অন্ধ্র প্রদেশে। ১৫ জুন রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে গুজরাটের কচ্ছ উপকূলে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version