নবজোয়ার যাত্রা শুরুর পর থেকে অভিষেকের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। মালদার ইংরেজবাজার ও পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীতেও নবজোয়ার যাত্রায় অংশ নেন তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী। এমনকী সিবিআই তলবের পর মাঝপথে কর্মসূচি ছেড়ে অভিষেক যখন বাঁকুড়া থেকে কলকাতা ফিরে আসেন, তখন তাঁর পরিবর্তে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভাষণ দেন মমতা। শুক্রবার ফের একবার তৃণমূল সুপ্রিমো ও সেকেন্ড ইন কমান্ডকে একমঞ্চে দেখা যাবে।
২৫ এপ্রিল কোচবিহার থেকে নবজোয়ার যাত্রা শুরু করেন অভিষেক। বিভিন্ন জায়গায় মানুষের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা শুনে তা সমাধানের আশ্বাস ও দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। রাজ্যের সব জেলা ঘুরে এখন তা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার মহেশতলা ও ফলতায় জনসংযোগ সারবেন অভিষেক। অন্যদিকে বৃহস্পতিবারই ডায়মন্ড হারবারা পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেখানে রাত্রিবাস করেন তিনি। রাতে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক। আগামী মাসের শুরুতেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। শুক্রবার মমতা-অভিষেক নবজোয়ার যাত্রা নিয়ে কী বার্তা দেন, সেদিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে। মমতা-অভিষেক দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রয়েছেন। এই জেলার ভাঙড়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগুনে ফুটছে। গত কয়েকদিন ধরে মুহুর্মুহু বোমাবাজি, গুলি চালনা থেকে শুরু করে তৃণমূল-আইএসএফ সংঘর্ষ সবই দেখেছে ভাঙড়। গোটা ভাঙড় জুড়ে এখন শুধু ধ্বংসের ছবি। এদিনের সভা থেকে ভাঙড় নিয়েও দলের শীর্ষ দুই নেতা-নেত্রী কোনও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন কি না, সেই নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভাঙড় নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে ভাঙড়ে বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। ওখানে যাঁরা বিরোধী দলে ছিল, তারাই শুরুটা করেছে। সংখ্যালঘুরা আমাদের ভাইবোন। তবে ধর্মের নামে তাঁদেরও ভুল পথে চালনা করা হচ্ছে। গতকাল আমাদের লোকজনরাও প্রতিরোধ করেছেন। যেটা সত্যি, সেটা আমি বলবই। আমি পুলিশ-প্রশাসনকে কঠোরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার নির্দেশ দিয়েছি।’