অভ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কাটোয়া
বেড়ার এক চিলতে ঘর, তার উপর টিনের ছাউনি। মরচে ধরা টিন দেখে বোঝা যাচ্ছে, বদলানোর সময় এসেছে। শুধু টিন নয়, দৈন্যতার ছাপ গোটা ঘর জুড়ে। ঘরের সামনে ফাঁকা উঠোনে দলের পতাকা গুছিয়ে রাখছিলেন বৃদ্ধ। আপনিই কি রামচন্দ্র মণ্ডল? ঘাড় ঘুরিয়ে পতাকাগুলি রেখে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। পরনে খাটো লুঙ্গি আর গায়ে জড়ানো গামছা। ঘাড় নেড়ে জানালেন ‘হ্যাঁ’। ব্যস্ত কি না জানতে চাওয়ায় হেসে বলেন, ‘দলের দু’এক জন আসবে। গাঁয়ে পতাকা বাঁধতে যাব। তারই কাজ কিছুটা গুছিয়ে রাখছিলাম।’

Panchayat Nirbachan 2023 : ২৫ বছরের চোখে দিন বদলের স্বপ্ন, ভোটে জিতে শিক্ষায় ‘সংস্কৃতি’ ফেরাতে চান বাম প্রার্থী মৌসুমী
গত ফেব্রুয়ারিতে ৮০ পার করেছেন রামচন্দ্র। এবার কাটোয়া ১ ব্লকের খাজুরডিহি পঞ্চায়েতের ১২ নম্বর সংসদ থেকে তিনি সিপিএম প্রার্থী। বয়সের ছাপ শরীরে পড়লেও প্রাণশক্তিতে ভাটা পড়েনি। এই বয়সেও পতাকা বাঁধা থেকে দেওয়াল লেখার কাজ তরুণদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে করে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু এত বয়সে ভোটের ময়দানে কেন? অশীতিপর মানুষটি বলেন, ‘এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। ওরা আমাকে চায় তাই ফের দাঁড়াতে হলো। শেষ বয়সেও যদি এলাকার মানুষের জন্য কিছু করে যেতে পারি তো মন্দ কী? আবার আমাকে দেখে আর পাঁচটা ছেলেও হয়তো লাল পতাকা তুলে নেবে, এগিয়ে আসবে। সেটাও তো কম বড় পাওয়া নয়।’

Panchayat Election 2023 : ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয়বার ‘ফুল বদল’ ৫০ টি পরিবারের! শোরগোল দুবরাজপুরে
ভোটের ময়দানে রামচন্দ্র লড়ে যাচ্ছেন সেই ১৯৯৮ সাল থেকে। সেবার প্রথম পঞ্চায়েত ভোটে জিতে সদস্য হন। এর পর ২০০৩ সালেও ওই আসনে জয় পান তিনি। রাজ্যে সরকারে পালাবদল হলেও ২০১৩ সালে খাজুরডিহি পঞ্চায়েত থেকে ফের জেতেন তিনি। সেবার পঞ্চায়েতে তিনিই ছিলেন একমাত্র সিপিএম সদস্য। এবার ফের একই আসন থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। গল্পের ঢংয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের ফরিদপুরের মাদারিহাট মহকুমায় বাড়ি ছিল আমাদের। দেশভাগের সময় বাবার হাত ধরে চলে আসি এ দেশে। বরাবরই কষ্টের জীবন। আগে সংসার চালাতে তাঁত বুনতাম। মহাজন প্রাপ্য পারিশ্রমিক দিতেন না। সেই সময় তাঁত শ্রমিকদের নিয়ে শ্রমিক আন্দোলনে নাম লিখিয়েছিলাম।’

WB Panchayat Polls : আমি তো এমনিই আধমরা, মারলে মেরে দিক
এর পর ধীরে ধীরে বাম রাজনীতিতে পা রাখেন রামচন্দ্র। ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। স্ত্রী সুখলতাকে নিয়েই এখন সংসার। নিজের বিঘে দুই জমি রয়েছে। ওই জমি চাষ করেই বছরের খাবার জোটে। বৃদ্ধ বলেন, ‘রাজনীতি থেকে কিছু নেওয়ার নেই, আমি রাজনীতি করি দেওয়ার জন্য।’ অন্য দল থেকে কখনও ডাক পাননি? বলেন, ‘পেয়েছি, কিন্তু যাইনি। মানুষ আমাকে একটা দলের হয়ে ভোট দিয়েছে, নিজের স্বার্থে অন্য দলে যেতে পারব না। মানুষ বেইমান বলবে, এমন কাজ করতে পারব না।’ এবারও নিজের জয় নিয়ে নিশ্চিত তিনি। বলেন, ‘মানুষ চেয়েছে বলেই তো দাঁড়িয়েছি। মানুষ ভোট দিতে পারলে আমিই জিতব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version