পঞ্চায়েত নির্বাচনে বুথে কি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে? রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়া গেল না এমন কোনও উল্লেখ। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে বলা হয়েছ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় টহল দেবে। নাকা চেকিং করবে। মানুষের আস্থা অর্জনের কাজ করবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং দুই রাজ্যের সীমানা পাহারা দেওয়ার কাজেও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। কিন্তু বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে বলে তো কোনও উল্লেখ নেই সেই বিজ্ঞপ্তিতে। আর এর পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি পঞ্চায়েত নির্বাচনে কোনও বুথেই থাকবে না কেন্দ্রীয় বাহিনী?

Panchayat Election 2023 : ‘৩১৫ কোম্পানি বাহিনী কোথায়-কী ভাবে ব্যবহার?’ কমিশনকে চিঠি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের
প্রসঙ্গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে নিরাপত্তার প্রশ্নে বারেবারেই প্রথম থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিরোধীরা। বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। আদালতে এই বিষয়ে বারংবার ধাক্কা খায় রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট করানোর সাফ নির্দেশ দেয় আদালত। যার জেরে কেন্দ্রের কাছে বাহিনী চাইতে হয় রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে।

Civic Volunteer : নিষেধ সত্ত্বেও সিভিক ভলান্টিয়ারদের ব্যবহার! হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা
নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের হয়। মামলার রায়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের সব জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ। কিন্তু তারপরেও আদালতের সেই নির্দেশ কার্যকর না করার অভিযোগ ওঠে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। যার জেরে কমিশনের বিরুদ্ধে ফের আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলায় আরও কড়া রায় দেয় হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত জানিয়ে দেয় ২০১৩ সালের চেয়ে যেন কোনওভাবেই কম কেন্দ্রীয় বাহিনী এই পঞ্চায়েত নির্বাচনে না থাকে।

West Bengal Panchayat Election 2023 : ভোটারদের ভরসা দিতে পদক্ষেপে বার্তা কোর্টের, কমিশনে হতাশ
কেন্দ্রের থেকে মোট ৮২২ কোম্পানি বাহিনী চায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই সংখ্যাটা ছিল ৮২০ বাহিনী। কিন্ত সেই বাহিনী কোথায় কী ভাবে ব্যবহার হচ্ছে তা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। এমনকী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকেও প্রথম লপ্তে পাঠান কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার নিয়ে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়। আর এই সবেরই মাঝে প্রকাশ্যে এল কমিশনের এই বিজ্ঞপ্তি। এর ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। কারণ বাহিনী যদি বুথেই না থাকে, তাহলে ভোটারদের নিরাপত্ত ও অবাধে ভোটদান প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version