বুথে চলল ছাপ্পা ভোট। কিছু ব্যালট পেপার ছিঁড়ে দেওয়া হল। এরপরেই ব্যালট বাক্স সিল করে ডিসিআরসি-তে জমা দিলেন প্রিসাইডিং অফিসার। ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির আরমাবাগের বাতানলের ৭৮ নম্বর কাচগোরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলে এমনটা ঘটত না বলেই মনে করেন ওই প্রিসাইডিং অফিসার।

জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে নির্দিষ্ট সময়েই ভোটগ্রহণ শুরু হয় ওই বুথে। অভিযোগ, হঠাৎই বাইক বাহিনী এসে বুথে তাণ্ডব শুরু করে। চলে ছাপ্পা ভোট। ছিঁড়েও দেওয়া হয় কিছু ব্যালট পেপার। খবর পেয়ে বুথে পৌঁছান সেক্টর অফিসার। এরপরেই সেক্টর অফিসারের নির্দেশে ডিসিআরসি-তে ব্যালট বাক্স জমা দেন প্রিসাইডিং অফিসার।

Panchayat Election 2023 : জয়নগরে বুথের মধ্যেই TMC-নির্দল সংঘর্ষ, বেধড়ক মার খেয়ে হাসপাতালে পোলিং অফিসার
এই বিষয়ে ওই প্রিসাইসাং অফিসার বলেন, ‘সব ঠিকঠাক চলছিল, ৯টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। ৪ জন এজেন্ট ছিল। হটাৎ কিছু মানুষ এসে ৪ জনকে মেরে বের করে দিল। আমাকে বলল, আপনাকে একটু ছাড়তে হবে। আমি বলি, পিসফুল ভোট হচ্ছে, এমন বলছেন কেন? আবার ঠিকঠাক ভোট শুরু হল। মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে। এরপর ১১টার সময় প্রায় ২০- ২৫ জনের বাইক বাহিনী এল। যে ব্যালট পেপারগুলো ছিল সেগুলি কিছু ছিঁড়ল, কিছু ঢোকাল, তারপর পালিয়ে গেল।

WB Panchayat Vote 2023 : ব্যালটে আগুন, পুকুরে ভাসছে পেপার! জলেই গেল জনমত
এই ঘটনার পরেই সেক্টরে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানান প্রিসাইডিং অফিসার। তিনি বলেন, ‘আমি বহু চেষ্টা করেছি। একটা মাত্র পুলিশ ছিল। একটা সিভিক সাহায্যের জন্য ছিল। সেক্টরকে ফোন করলম। সেক্টর বলল গেটটা বন্ধ করে দিন। গেট বন্ধ করে দিলাম। সেক্টর অফিসার গিয়ে দেখলেন। দেখে তাঁরা বললেন, যতটুকু যা হয়েছে চলে যান। এখানে আর ভোট হবে না।’ ওই প্রিসাইডিং অফিসার জানান, বুথে কোনও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ছিলেন না। থাকলে এই ঘটনা ঘটত না বলেই মনে করেন তিনি।

Barasat Panchayat Updates : ভোট দিয়ে বেরিয়েই বিনামূল্য়ে মুখরোচক ফুচকা!

আহত পোলিং অফিসার
এদিকে এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে বুথের মধ্যেই তৃণমূল ও নির্দল সমর্থকদের সংঘর্ষ আহত হয়েছেন পোলিং অফিসার। পোলিং অফিসার আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ভাঙচুর চলে বুথেও। আহত পোলিং অফিসারকে তড়িঘড়ি চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। এই বিষয়ে আক্রান্ত পোলিং অফিসার অমর্ত্য সেন বলেন, ‘সকালে ভোট চালু হয়। বুঝতেই পারছিলাম বুথের বাইরে অশান্তি হচ্ছে। তখন থেকেই সেক্টরকে ফোন করতে থাকি। ওরা বলে, চালিয়ে নিন। আমার সঙ্গে সেক্টরের একপ্রকার ঝগরা শুরু হয়। তারপর হঠাৎই দেখলাম সবাই হইহই করে বুথে ঢুকে পড়ল। ১০-১৫ জন বুথে ভাঙচুর শুরু করল। ছাপ্পা ভোট দিতে শুরু করল। কিন্তু তারা কারা আমি জানি না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version