প্রথমে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় NRS-এ স্থানান্তরিত করা হলে শনিবার সকালে মৃত্যু হয় ওই CPIM কর্মীর। হাসপাতালেই তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্ট কলকাতা জেলার একাধিক নেতৃবৃন্দ।
এদিকে বর্ধমানে শেষ শ্রদ্ধা জানান দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সহ দলের রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব। এরপর মৃতদেহ নিয়ে আউশগ্রামের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা দেন দলের নেতৃত্বরা। এদিন শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাম কর্মীদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। যেহেতু তৃণমূলের এই হিংসার প্রতিবাদ করছে একমাত্র বামেরাই। আর এই হিংসার প্রতিবাদ করতে গিয়েই রাজিবুলের মতো একজন ৩৬ বছরের তরতাজা যুবককে খুন হতে হল। বাড়িতে ছোট দুটি শিশু, তাঁরা অনাথ হয়ে গেল। এর দায় নির্বাচন কমিশন ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিতে হবে। এই ধরনের ঘটনা যুদ্ধপরাধের থেকে কম নয়। দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।’
রাজিবুলের ভাই বলেন, ‘ভোট কর্মীরা এলাকায় পৌঁছলে শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবি জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন রাজিবুল।’ অভিযোগ সেসময় ইট, রড নিয়ে তাঁর উপর চড়াও হয় তৃণমূলের কর্মীরা। বেধড়ক মারধর করা হয়। বেশ কিছুক্ষণ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন রাজিবুল।
তারপর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শনিবার সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনাটি ঘটে বর্ধমানের আউশগ্রামে। এদিকে, রাজিবুল হকের খুনের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম জালালউদ্দিন মোল্লা এবং শেখ আবুল হোসেন।
তাঁদের মধ্যে জালালউদ্দিনের বাড়ি আউশগ্রামের বেলেমাঠ গ্রামে। আবুল বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা। শনিবার রাতে নিজের এলাকা থেকেই তাদের গ্রেফতার করে আউশগ্রাম থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে তৃণমূলের এক প্রভাবশালী নেতা তথা সম্পন্ন ব্যবসায়ী। বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।