‘এই রাজ্যে চলা রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ করতে হলে সব দলকে নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে’, পঞ্চায়েত নির্বাচন পর্বে ও ভোট মিটে যাওয়ার পরে লাগাতার সংঘর্ষ ও রক্তক্ষয় বন্ধ করতে এমনই পরামর্শ ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংয়ের। তিনি বলেন, ‘বাংলার রাজনীতিতে বোমার ব্যবহার সেই প্রাচীনকাল থেকে হয়ে আসছে। কিন্তু পুলিশ বোম উদ্ধার করছে। তবে এই রাজ্যে চলা রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ করতে হলে সব দলকে নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। সব রাজনৈতিক দলের লোক মারা গিয়েছেন। তবে তার মধ্যে তৃণমূলের লোক বেশি মারা গিয়েছেন। তাই পরিস্থিতি যথেষ্ট জটিল হচ্ছে। তার সমাধান করতে হলে সব রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় বসতে হবে। এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক দলগুলিকে নেতাদেরই নিয়ন্ত্রন করতে হবে।’

মুর্শিদাবাদে বামকর্মীর মৃত্যু
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই ঘটেছে হিংসা-সংঘর্ষ-রক্তক্ষয়। ইতিমধ্যেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এমনকী ভোট মিটে যাওয়ার পরেও সংঘর্ষ থামার কোনও লক্ষণই নেই। বরং মৃত্যুমিছিলও এখনও অব্যাহত। আজও মুর্শিদাবাদের এক বাম কর্মীর মৃত্যু হয় এনআরএস-এ। জানা গিয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন তৃণমূল আশ্রীত দুস্কৃতীদের হাতে জখম হন রিন্টু শেখ নামে ওই বামকর্মী। গুরুতর আহত অবস্থায় সেই দিনই তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৯ জুলাই কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয় রিন্টু শেখকে। তারপর থেকে সেখানেই চলছিল তাঁর চিকিৎসা। অবশেষে ব্যর্থ হল চিকিৎসকদের সমস্ত প্রয়াস। দুপুর দেড়টা নাগাদ মৃত্যু হয় রিন্টু শেখের। তাঁর মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছতেই এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। দলীয় কর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে পথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিপিএম।

West Bengal Panchayat Election Post Poll Violence : টাঙির কোপ-বোমাবাজি-গুলি থেকে জয়ী প্রার্থীকে মারধর, ভোটের পরেও রক্তে লাল বাংলা
ক্যানিংয়ে ধৃত আইএসএফ নেতা
অন্যদিকে আবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হল এক আইএসএফ নেতা-সহ ৩ জনকে। ধৃতরা হল শ্যায়াম গাজি, রমজান গাজি ও রশিদ জমাদার। ধৃতদের মধ্যে রশিদ জমাদার আইএসএফ নেতা। যদিও খুনের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি রশিদের। জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় নান্টু গাজি ওরফে নানু নামে ওই তৃণমূল কর্মীকে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে শনিবার রাতে রশিদদের গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও ধৃতদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, শাসক দলের নির্দেশে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে তাদের। এই প্রসঙ্গে রশিদ জমাদারের স্ত্রী জানান, রাত ১টার সময় পুলিশ বাড়িতে গিয়ে ধরে নিয়ে যায় তাঁর স্বামীকে। বলে থানার বড়বাবুর সঙ্গে দেখা করতে। তাঁর দাবি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে রশিদকে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version