পোর্টেবেল জ্যামার ও রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন ডিটেক্টর বা RFID-এর সাহায্য নিয়ে দুঃসাহসিক ডাকাতির অভিযোগে বিহারের তিন দুষ্কৃতীকে দোষী সাব্যস্ত করল চুঁচুড়া আদালত। কাল সাজা ঘোষণা হতে পারে বলে খবর। স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থার অফিসে ডাকাতি করতে এসে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালানোর সময় ধরা পড়েছিল বিহারের একটি ডাকাত দল। আজ চুঁচুড়া আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক শিবশঙ্কর ঘোষ অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করেন।

১৮ জুলাই হবে সাজা ঘোষণা। ২০২১ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর চন্দননগরের লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে বেসরকারী স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় ডাকাতি হয়। ডাকাতির খবর পেয়ে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ ও গোয়েন্দারা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা। ডাকাত দল সোনা নিয়ে পালাতে গিয়ে পুলিশের মুখে পড়ে।

Siliguri Crime : রাজ্যে ঢুকে ডাকাতি, ধরা পড়ল পাদরি গ্যাংয়ের ২ দুই সদস্য! শিলিগুড়ি তোলপাড়
সেই সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে তাঁরা। পুলিশও পালটা জবাব দেয়। চন্দননগর থেকে দুই দুষ্কৃতীকে অস্ত্র সহ গ্রেফতার করে পুলিশ। নাকা চেকিং শুরু হয় বিভিন্ন জায়গায়। চুঁচুড়া তুলোপট্টি ঘাটের কাছে এক দুষ্কৃতীকে পালানোর সময় ধরে ফেলে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। সেখানেও গুলি চলে। এক দুষ্কৃতী পালিয়ে যায়

এই মামলার সরকারি আইনজীবী যিনি স্পেশাল পিপি’র দায়িত্বে ছিলেন তাঁর নাম বিভাস চট্টোপাধ্যায়। তিনি এদিন কৃষ্ণনগর আদালতে থাকায় ভিডিয়ো কনফারেন্সে মামলায় অংশ নেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিট্টু কুমার ওরফে করন, গুড্ডু কুমার ওরফে ধর্মেন্দ্র এবং বিট্টু কুমার ওরফে ছোট্টু বিহারের সোনপুর সেখপুরা ও বৈশালী জেলার বাসিন্দা। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে।

Lake Town Murder Case : ট্রেনে করে এসে টার্গেট ‘খাল্লাস’, ১২ ঘণ্টায় লেকটাউন খুনের কিনারা! ধৃত শ্যুটার সহ ২
মূলত স্বর্ণ ঋণ সংস্থার অফিসে ডাকাতি করত এই গ্যাং। তাঁরা চন্দননগরে ডাকাতির আগে সিঙ্গুরে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকে বলে জানা যায়। চন্দননগরে রেইকি করে একাধিকবার। এই মামলার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন অতনু মাঝি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডাকাত ধরেছিলেন তিনি। জ্যামার ব্যবহার করায় ঘটনার সময় যোগাযোগে সমস্যা হয় পুলিশের।

Purba Bardhaman Robbery : মহিলা সেজে জাতীয় সড়কে লুঠপাট! বর্ধমানে গ্রেফতার ৪
তদন্তে নেমে পুলিশ ডাকাত দল যেখানে ভাড়া ছিল সিঙ্গুরের সেই ঘর থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করে। তাতে অনেক তথ্য মেলে। হুগলি জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় এদিন বলেন, ‘তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে আদালত দোষীদের দোষী সাব্যস্ত করে। পুলিশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ডাকাত দলকে ধরেছিল।’ আজ এই মামলার কারণে আদালত চত্বর পুলিশি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version