রাজ্যজুড়ে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। আর এই কারণেই উদ্বেগ বাড়ছে চারিদিকে। এবার উদ্বেগ বাড়িয়ে মৃত্যু হল আরও এক নাবালকের। মঙ্গলবার রাতে কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে মৃত্যু হল নদিয়ার হাঁসখালির ডেঙ্গি আক্রান্ত বালক জয় বিশ্বাসের (১১)। এই নিয়ে গত কয়েকদিনে কলকাতার হাসপাতালগুলিতে নদিয়া জেলার দুই বাসিন্দার মৃত্যু হল। মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিশদে কিছু না জানা গেলেও, হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্লেটলেট কমে যাওয়াতেই মৃত্যু হয়েছে ওই নাবালকের। স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, এখনও পর্যন্ত গোটা রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫০০-র বেশি। তবে মোট আক্রান্তের বেশিরভাগই গ্রাম বাংলার।

Dengue Fever : বারাসতের পর কলকাতা, রাজ্যে ফের ডেঙ্গির বলি ১ নাবালিকা
কলকাতায় এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্য়া ২৫০-র কাছাকাছি। তাই বিশেষ করে জেলার অবস্থা চিন্তা বাড়াচ্ছে রাজ্য সরকারের। কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ আবার রাজ্যে ডেঙ্গির বাড়াবাড়ির জন্য পঞ্চায়েত ভোটকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। জুলাইতে পঞ্চায়েত নির্বাচন হওয়ার কারণে মশার লার্ভা নিধন, সচেতনতামূলক প্রচারের কাজ থমকে গিয়েছে। আর সেই কারণেই বেড়ে গিয়েছে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা, অভিযোগ এমনই। এই পরিস্থিতিতে শিয়রে মেঘ দেখছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। ডেঙ্গি নিয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সরকারি গাইডলাইনও দেওয়া হয়েছে।

Dengue Symptoms : ৩০০ ছাড়াল ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা, কড়া পদক্ষেপ হুগলি জেলা প্রশাসনের
সেই গাইডলাইনে বলা হয়েছে, রোগীর প্লেটলেট কাউন্ট ১০ হাজারের নীচে গেলে প্লেটলেট দিতে হবে। যেসব রোগীদের প্লেটলেট কাউন্ট ১০ থেকে ২০ হাজারের মধ্যে, সেক্ষেত্রে রক্তপাত না হলে প্লেটলেট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কোন গ্রুপের প্লেটলেট প্রয়োজন, প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করতে হবে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি সংক্রমণে রোগীর দেহে অনুচক্রিকা বা প্লেটলেট কাউন্ট কমে যায়। তখন রক্তপাত হতে পারে। এখনও পর্যন্ত কলকাতা শহরে ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছে চার জনের।

Dengue In Kolkata: ডেঙ্গির চোখরাঙানি! বাংলাদেশ থেকে রাজ্যে ঢুকলে ইমিগ্রেশনেই রক্ত পরীক্ষা
বাঙুর হাসপাতালে সোমবার পর্যন্ত ডেঙ্গি নিয়ে ১০ জন ভর্তি ছিলেন। ওই হাসপাতালে ডেঙ্গি রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে, যাতে অন্য রোগীদের সঙ্গে তাঁদের থাকতে না হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষার জল জমে আছে, পাশাপাশি নোংরা আবর্জনার স্তূপ তৈরি হয়েছে সর্বত্র। জমা জলে মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে, যার কারণে জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। ইতিমধ্যে গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যকর্মীরা গিয়ে ডেঙ্গি সতর্কতা নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

Dengue Death In Kolkata : বাড়ছে উদ্বেগ, ফের রাজ্যে ডেঙ্গিতে মৃত্যু ২ জনের! আক্রান্ত বাড়ছে দুই ২৪ পরগনায়
জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আবেদন করা হচ্ছে। আবার দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা করানোর কথাও বলছেন চিকিৎসকরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version