‘ডোকরা’ বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বাঁকুড়া শহরের উপকন্ঠে বিকনা গ্রামের শিল্পীদের কর্মব্যস্ততার ছবি। একটা সময় এই শিল্প যখন ধুঁকতে বসেছিল, ঠিক তখনই প্রশাসনিক সহযোগিতায় ফের প্রাণ ফিরে পায় এই অন্যতম প্রাচীন শিল্প। এমনকি বিকনা পেয়েছে ‘শিল্প গ্রাম’-এর তকমাও। তাই এখন কাজের চাপে দম ফেলার ফুরসৎ নেই বিকনার ডোকরা শিল্পীদের। ফলে হাল ফিরেছে শিল্পের, হাল ফিরেছে শিল্পীরও। প্রসঙ্গত, কোনও সুদূর অতীতে বাঁকুড়ার এই গ্রামে ডোকরা শিল্পের প্রচলন হয়েছিল তা এখন আর কেউ বিশেষ মনে করতে পারেন না। কারওমতে ১৫০ বছর বা আবার কেউ বলেন তারও বেশি।

India Post : বাঁকুড়ার হস্তশিল্পের ফের বিশ্ব স্বীকৃতি, জায়গা পেল ভারতীয় ডাকবিভাগের খামে
তবে দিন মাস বছরের হিসেবে সময় যাই হোক না কেন, দীর্ঘ এই যাত্রা পথে একটু একটু করে বদলেছে বিকনার ডোকরা শিল্পীদের কাজের ধরণ। এক সময় যেখানে লক্ষ্মীর ভাঁড়, চাল মাপার পাই, কিংবা হাতি, ঘোড়া আর এবং দেবদেবীর মূর্তি তৈরির কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, আজ তার পরিধি অনেক বেড়েছে।

Wood Puppet : বছরভর ব্যবসায় লক্ষ্মীলাভে আসবাবপত্রেও কাঠের পেঁচা
মানুষের চাহিদা ও আগ্রহের কারণে নিজেদের শিল্পকর্মকে বদলে একটু একটু করে ফেলেছেন এই গ্রামীণ শিল্পীরা। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এখন এখান তৈরি হচ্ছে সুদৃশ্য কারুকাজ সমৃদ্ধ গয়না বাক্স, সোপ কেস, অ্যাসট্রে, ঘর সাজানোর নানান জিনিস পত্রের পাশাপাশি মহিলাদের জন্য বিভিন্ন রকমের গয়না।

Organic Farming In India: জৈব পদ্ধতিতে বিভিন্ন শাকসবজির বীজ তৈরি করে ফ্রান্সে রফতানি, বিপুল আয়ের দিশা দেখাচ্ছে রায়গঞ্জ
এক ডোকরা শিল্পী এই বিষয়ে বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ডোকরা শিল্পকর্মের চাহিদা বেড়েছে। সাধারণভাবে সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আমরা কাজ করি, কিন্তু এমন একেক সময় চাহিদা থাকে যে রাত বারোটা পর্যন্তও কাজ করতে হয়।

Jewellery Hub : শ্মশানের উপর গোল্ড হাব! জমিজটে থমকে দাসপুরের ‘সোনা’র প্রকল্প
একটা সময় বর্তমান প্রজন্ম এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল, কিন্তু বর্তমান সময়ে এখন তাদেরও এই কাজে আগ্রহ বাড়ছে’। আর এই সাফল্যের পিছনে অনলাইন ব্যবসা আর বিশ্ব বাংলা ও মঞ্জুষার বিশেষ ভূমিকা আছে বলে তাঁরা জানান। ওই শিল্পী আরও বলেন, ‘যখন খারাপ সময় ছিল, তখন সরকার বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

শুধুই আর্থিক সাহায্য নয়, আমাদের হাতের তৈরি জিনিসপত্র কিভাবে কোথায় বিক্রি করলে বেশি লাভ হবে, সেই বিষয়েই সরকারের তরফে ভাবনা চিন্তা করা হয় ও আমাদের সঠিক উপায় বলে দেওয়া হয়’। ডোকরা শিল্পীদের মতে, অদূর ভবিষ্যতে এই শিল্প আরও সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version