তবে দিন মাস বছরের হিসেবে সময় যাই হোক না কেন, দীর্ঘ এই যাত্রা পথে একটু একটু করে বদলেছে বিকনার ডোকরা শিল্পীদের কাজের ধরণ। এক সময় যেখানে লক্ষ্মীর ভাঁড়, চাল মাপার পাই, কিংবা হাতি, ঘোড়া আর এবং দেবদেবীর মূর্তি তৈরির কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, আজ তার পরিধি অনেক বেড়েছে।
মানুষের চাহিদা ও আগ্রহের কারণে নিজেদের শিল্পকর্মকে বদলে একটু একটু করে ফেলেছেন এই গ্রামীণ শিল্পীরা। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এখন এখান তৈরি হচ্ছে সুদৃশ্য কারুকাজ সমৃদ্ধ গয়না বাক্স, সোপ কেস, অ্যাসট্রে, ঘর সাজানোর নানান জিনিস পত্রের পাশাপাশি মহিলাদের জন্য বিভিন্ন রকমের গয়না।
এক ডোকরা শিল্পী এই বিষয়ে বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ডোকরা শিল্পকর্মের চাহিদা বেড়েছে। সাধারণভাবে সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আমরা কাজ করি, কিন্তু এমন একেক সময় চাহিদা থাকে যে রাত বারোটা পর্যন্তও কাজ করতে হয়।
একটা সময় বর্তমান প্রজন্ম এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল, কিন্তু বর্তমান সময়ে এখন তাদেরও এই কাজে আগ্রহ বাড়ছে’। আর এই সাফল্যের পিছনে অনলাইন ব্যবসা আর বিশ্ব বাংলা ও মঞ্জুষার বিশেষ ভূমিকা আছে বলে তাঁরা জানান। ওই শিল্পী আরও বলেন, ‘যখন খারাপ সময় ছিল, তখন সরকার বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
শুধুই আর্থিক সাহায্য নয়, আমাদের হাতের তৈরি জিনিসপত্র কিভাবে কোথায় বিক্রি করলে বেশি লাভ হবে, সেই বিষয়েই সরকারের তরফে ভাবনা চিন্তা করা হয় ও আমাদের সঠিক উপায় বলে দেওয়া হয়’। ডোকরা শিল্পীদের মতে, অদূর ভবিষ্যতে এই শিল্প আরও সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করবে।
