অন্বেষা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভরসা শুধু কয়েকটি অস্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ। পূর্ব বর্ধমান পুলিশ ৪টে গ্রুপ তৈরি করে ছড়িয়ে পড়ল চার দিকে। লক্ষ্য, নাবালিকা ধর্ষণে অভিযুক্ত একটা লোককে গ্রেপ্তার। ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে ধরা পড়ল সে। এখনও জেল হেফাজতেই আছে। গত বছরের এই ঘটনায় সম্প্রতি শুরু হয়েছে ট্রায়াল। আজ নির্যাতিতা সাক্ষী দেবেন আদালতে। ঘটনাটা খুলেই বলা যাক।

Calcutta High Court : মুক্তিতেও মুক্তি কই যৌনকর্মীর মেয়ের!
তখন প্রায় দুপুর গড়িয়ে গেছে। পড়শি জেলা থেকে বই কিনতে বর্ধমান শহরে এসেছে ১৭-র কিশোরী। একা। তবে রাস্তাঘাট অচেনা। ট্রেন থেকে নামার পরে ঘাবড়ে যায়। তখনই তাকে ‘সাহায্য’ করতে এগিয়ে আসে বছর ২৭-এর এক তরুণ। বলে, তার টোটো আছে। বইয়ের দোকানও নখদর্পণে। কিশোরী সরল বিশ্বাসে তার সঙ্গে বেরিয়ে লোকটির টোটোয় ওঠে। কিন্তু বই কেনা তার হয়নি। তাকে একটি ফাঁকা গলির মধ্যে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে লোকটি। মেয়েটি যখন এই যৌন অত্যাচারে অচৈতন্য, সেই সময়ে সে সেখান থেকে পালায়। তখন বিকেল।

Crime News : ডেটিং অ্যাপেই মন দেওয়া-নেওয়া, প্রেমিকাকে হোটেলে ডেকে কাজ হাসিল প্রেমিকের!
সন্ধে নাগাদ স্থানীয়রা একটি সংজ্ঞাহীন মেয়েকে গলিতে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে জানান। মহিলা পুলিশ গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ডাক্তারি পরীক্ষায় জানা যায়, মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। মেয়েটির বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্ত কোথায়? মেয়েটি জানিয়ে দেয়, সে লোকটিকে চেনে না। সে দিনই প্রথম দেখেছে। মেয়েটি সেই সময়ে ট্রমাটাইজ়ড থাকায় আর তার কাছে কিছু জানতে চায়নি পুলিশ। ‘অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির’ বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। আইপিসি ও পকসো-র সংশ্লিষ্ট ধারায়। পুলিশ জানায়, সেই রাতেই স্টেশন-সহ সব জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়।

Kerala Murder : ‘ক্ষমা কর মেয়ে’, কেরালার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ পুলিশের
তবে শহরের সব জায়গায় তা না থাকায় সূত্র খুঁজতে অনেকটা সময় লাগে। অভিযুক্তের সাইড ফেস ও জামার রং ছাড়া বিশেষ কিছু বোঝা যায়নি। পুর্ব বর্ধমানের এসপি কামনাশিস সেন নিজে চারটি দল তৈরি করেন। সাধারণ পোশাকে এই চারটি দল স্টেশন-সহ নানা সম্ভাব্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। সাফল্য আসে তাতেই। ওই দলের এক অফিসার দেখেন, প্রায় একই রকম দেখতে একটা লোক একটি মেয়েকে ভুলিয়ে তার সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইছে। কিন্তু তিনি নিশ্চিত হতে পারছিলেন না।

Crime News : ধারের টাকা না মেটানোর খেসারত? পুনেতে ছুরি ঠেকিয়ে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ!
তাকে কায়দা করে অন্যরা ঘিরে ফেলেন ও ওই লোকটির ছবি তুলে মেয়েটিকে পাঠানো হয়। সে নিশ্চিত করে, এটাই সেই লোক। স্টেশন থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। এসপি নিজেই প্রথমে জেরা করেন। তাঁর কথায়, ‘এই লোকটি এর আগে একাধিকবার মেয়েদের সঙ্গে যৌন অপরাধ করেছে। হি ইজ় আ হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার। কিন্তু ধরা পড়েনি।’ ৬০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়। সম্প্রতি ট্রায়াল শুরু হয়েছে। আজ মেয়েটিকে পুলিশি নিরাপত্তায় নিয়ে আসা হবে আদালতে। পুলিশ আশাবাদী, এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হবে ও অপরাধী পকসো আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version