ঝাড়গ্রামের সভা থেকে ফের একবার সিপিএম-কংগ্রেস ও বিজেপিকে একই বন্ধনীতে রেখে নিশান করলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীদের আক্রমণ করতে গিয়ে মমতা বলেন, ‘জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া, আর এখানে বিজেন্ডিয়া।’ যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস ও সিপিএম।

ঠিক কী বলেছেন মমতা?

এদিন ঝাড়গ্রামের সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় বাম-বিজেপি-কংগ্রেস এখন জগাই-মাধাই-গদাই, এটা খুবই দুর্ভাগ্যের বিষয়। একদিকে জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া (INDIA), আর এখানে বিজেন্ডিয়া। ওরা বিজেপির সঙ্গে বসে রয়েছে, একবারও লজ্জা করে না। মানুষের একটা নীতি থাকে, সেই নীতিটা মেনে চলতে হয়। যদি এমন করতে থাকে তবে বাংলায় আমরা সিপিএম ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়ব। বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই তো চলবেই।’

Mamata Banerjee News : ‘জাতীয় স্তরে INDIA, এখানে বিজেন্ডিয়া…’, বিরোধী জোট প্রসঙ্গ টেনে বিস্ফোরক মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কংগ্রেস নেতা সৌম্য আইচ রায় বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীকে পশ্চিমবাংলায় আরএসএস-এর লোকেরা দুর্গা বলে। আরএসএস-এর দুর্গার মুখে এহেন মন্তব্য সবসময়ই ভাল লাগে। এগুলো শুনতে ভাল লাগে। তিনি অনেক কিছু বলেছেন, জগাই-মাধাই-গদাই, আর গোয়াতে গিয়ে ভোট ভাগ করে বিজেপির হাত শক্ত করেছেন। জগদীপ ধনখড়কে উপরাষ্ট্রপতি হতে সহায়তা করেছেন। তাঁর সমর্থনে বিজেপির এখান থেকে প্রথম এমপি যায়। আজ নিশিকান্ত দুবে বলেছেন, তৃণমূলের সরকারটাই গঠিত হয়েছে বিজেপির সমর্থনে। রাজনাথ সিং না থাকলে তৃণমূলের সরকার তৈরি হত না। ফলে বিজেপি আর তৃণমূল একে অপরের পরিপূরক। তাই তৃণমূলের কাছ থেকে বিজেপি বিরোধী লড়াই কংগ্রেসকে শিখতে হবে না। কারণ আরএসএস-এর পাঠশালার প্রধান ছাত্রী হচ্ছেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ সৌম্যবাবু আরও বলেন, ‘ইন্ডিয়া জোটের বাধ্যবাধকতা তৃণমূল বুঝুক। তৃণমূল বুঝবে সেটা কী করবে না করবে!ইন্ডিয়া জোট যেখানে ছিল বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, আমরা আছি-থাকব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করুন তিনি থাকবেন কি থাকবেন না? কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক’দিন ইন্ডিয়া জোটে থাকে সেটাই দেখুন!’

Mamata Banerjee On Rahul Gandhi : ‘রাহুলের সাংসদ পদ ফিরলে…’, জেলযাত্রায় সুপ্রিম স্থগিতাদেশ নিয়ে টুইট মমতার
অন্যদিকে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর কটাক্ষ, ‘কে যেন বলেছিল অমিত শাহর থেকে মোদীজি ভাল? এই সমস্ত না করে, তিনি বরং দেখুন, তৃণমূলের যাঁকে প্রধান করে পাঠাচ্ছেন, সেটা নিয়ে গ্রামে গ্রামে মারমারি হচ্ছে কেন? লুঠেরাদের নিয়ে দল চালালে, যে সর্বনাশ হওয়ার, সেই সর্বনাশের দায় মুখ্যমন্ত্রীর।’ একইসঙ্গে জোট সম্পর্কে মমতাকে বিঁধে সুজন বলেন, ‘আগে ওঁর ইন্ডিয়া শব্দটা উচ্চারণ করার যোগ্যতা আছে কি না দেখুক! পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া ওঁর আবার ইন্ডিয়া কী আছ? তিনি কী করবেন তিনি ঠিক করুন, আমরা কী করব, তা অনেক আগে ঠিক করা আছে। তিনি তো হাল আমলের ৩ দিনের লোক।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version