নদিয়ার বগুলা কলেজ পাড়া উত্তরের বাসিন্দা স্বপ্নদ্বীপ কুন্ডু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। মাত্র একসপ্তাহ আগে শহরে এসে যাদবপুরে ভর্তি হয় সে। বুধবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ যাদবপুর মেন হস্টেল ক্যাম্পাস থেকে সম্পূর্ণ নগ্ন ও রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় স্বপ্নদীপকে। অনুমান, হস্টেলের তিনতলার বাংলা থেকে পড়ে গিয়েছেন তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই এদিন সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় র্যাগিংয়ের কোনও ব্যাপার আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রহস্য ঘনীভূত হয়েছে স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর বাবার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী। মৃত ছাত্রের বাবার দাবি, বুধবার সন্ধে থেকে বেশ কয়েকবার বাড়িতে ফোন করেন স্বপ্নদীপ। রাত ৯টায় শেষ বার তাঁর সঙ্গে মায়ের কথা হয়। শেষ ফোনে স্নপ্নদীপ বার বার তাঁর মাকে জানিয়েছিলেন, ‘খুব চাপে আছি। খুব ভয় লাগছে।’ শুনেই তাঁর মা তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে এমন কিছু ব্যাপার নেই। একইসঙ্গে স্বপ্নদীপকে তাঁর মা এও বলেন, পরদিন ভোর অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই তাঁর কাছে আসছেন তাঁরা। ওই ছিল শেষ কথা। এরপরই স্বপ্নদীপের ফোন থেকে মাঝরাতের কিছু পর বাড়িতে জানানো হয় সে হস্টেলের বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়েছে।
পরেরদিন বাবা-মা আসছে জেনেও কেন এমন পদক্ষেপ স্বপ্ননীলের? কী কারণে ভয় পাচ্ছিলেন স্বপ্নদীপ? এমন একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। অসমর্থিত সূত্রে জানা গিয়েছে, দেহে একাধিক আঘাত রয়েছে স্বপ্নদ্বীপের কিন্তু তা উপর থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও র্যাগিংয়ের অভিযোগ জমা পড়েনি। স্বপ্নদ্বীপ কুন্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্র ছিলেন না। কয়েকজন আবাসিক বন্ধুর সঙ্গে হস্টেলের ওই ঘরে থাকছিলেন। কী হয়েছিল সেখানে জানতে সহপাঠীদের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ। ছেলের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে কলকাতায় ছুটে আসেন স্বপ্নদীপের বাবা-মামা।