শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্য়ায়: ঘটনার দিন ঘটনা ঘটার সময় বা তার আগে পরে হস্টেল থেকে কোনও ফোন-ই স্টুডেন্ট ডিনকে করা হয়নি। দাবি করলেন ডিন অফ স্টুডেন্ট। এমনকি হস্টেলের সুপার যিনি হস্টেল ক্যাম্পাসের মধ্যেই থাকেন, ঘটনাস্থল থেকে তাঁর কোয়ার্টার মাত্র ১০ মিটার দূরে। তাঁকেও ফোনে কিছু-ই জানানো হয়নি যে এরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অথবা ছাত্রটির মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা গিয়েছে।

ঘটনার দিন ১০:০৫-এ ডিন অফ স্টুডেন্ট একটি ফোন পান হস্টেলের এক সিনিয়র ছাত্রের কাছ থেকে। যে ছাত্রটি বলে যে হস্টেলের মধ্যে রাজনীতিকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। হস্টেলের কিছু ছাত্র নতুন ছাত্রদের এই হোস্টেলে থাকতে বারণ করছে। পড়ুয়াদের এই বলে ভয় দেখানো হচ্ছে যে হস্টেলে থাকলে তাদেরকে পাঁচিলের উপর দিয়ে হাঁটতে হবে। তাই তারা যেন হস্টেলে না থাকে। ডিনের দাবি, এই কথা শোনার পর তিনি হস্টেল সুপারকে ফোন করেন এবং কোনও সমস্যা আছে কিনা খতিয়ে দেখতে বলেন। কিন্তু হস্টেল সুপার কোনও সমস্যা না পাওয়ায়, তিনি আর ডিনকে কিছু জানাননি।

এমনকি হস্টেল সুপার ডিনকে জানিয়েছেন যে, সেই দিন রাতে ঘটনা ঘটার আগে তার কাছেও কোন ফোন আসেনি। বা তাঁকে ডেকে আনা হয়নি যে এরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে অথবা ছেলেটির মধ্যে কোনও সমস্যা দেখা দিয়েছে। সে অস্বাভাবিক আচরণ করছে, এই ধরনের কোনও কিছুই তাঁকেও জানানো হয়নি। এমনকি তিনি নিজে ডিনের কাছ থেকে ফোন পাওয়ার পরে হস্টেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আসেন। কিন্তু এসে দেখেন, সেখানেও কোনও ঝামেলা  হয়নি বা কোনও ছাত্রের কোনও সমস্যা হয়েছে বলে। প্রশ্ন উঠছে, যদি ছাত্রটির আচরণে বিকেল থেকেই বা রাত্রি থেকেই কোনও অস্বাভাবিকত্ব লক্ষ্য করে থাকে পড়ুয়ারা তাহলে তারা কেন সুপার বা ডিনকে জানাল না?

গতকালই পুলিসের কাছে যে বয়ান জমা পড়েছে ছাত্রদের তাতে বলা হয়েছে যে ছেলেটির সমস্যা ছিল। সে বিকেল থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ করছিল এবং অসংলগ্ন কথা বলছিল। একসময় নিজেকে সে উলঙ্গ করে দেয়, উলঙ্গ করে বারান্দার মধ্যে ছোটাছুটি শুরু করে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ছাত্রদের চোখের সামনে যদি এই ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে ছাত্ররা কেন সেটা কাউকে জানাল না। বিকেল থেকে যদি তার মধ্যে অস্বাভাবিকত্ব কিছু দেখা যায়, সে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে কেন কাউকে কিছু জানাল না পড়ুয়ারা? এমনকি যে ছাত্রটি ১০টার সময় ফোন করে ডিনকে সেও কেন ছেলেটির অস্বাভাবিক আচরণ সম্পর্কে ডিনকে কিছু জানাল না?

প্রসঙ্গত, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিস। স্বপ্নদীপের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে হস্টেলের অজ্ঞাতপরিচয় আবাসিকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সংবিধানের ৩০২ (খুন) এবং ৩৪ (সম্মিলিত অভিসন্ধি) ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিস। স্বপ্নদীপের রহস্যমৃত্যুতে Ragging-এর শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভর্তির ২ দিনের মাথাতেই, বুধবার রাতে হস্টেলের ৩ তলার ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে স্বপ্নদীপের। তার গায়ে কোনও পোশাক ছিল না। এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে মৃত ছাত্রের পরিবার।

স্বপ্নদীপের বাবা জানিয়েছেন, মায়ের সঙ্গে শেষবার যখন স্বপ্নদীপের কথা হয়, তখন সে বলেছিল, ‘মা আমার ভীষণ ভয় করছে, আমায় বাড়ি নিয়ে যাও।’ ফোনে স্বপ্নদীপ মাকে আরও বলেছিল যে, হস্টেলে থাকতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। হস্টেলে থাকতে তার ভালো লাগছে না। ভয় লাগছে। সাড়ে ৯টা নাগাদ শেষবার মায়ের সঙ্গে কথা হয় স্বপ্নদীপের। ছেলের ভয় পাওয়ার কথা মাকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। তারপর থেকে বহুবার ছেলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন মা। কিন্তু ছেলে আর ফোন রিসিভ করেনি। 

আরও পড়ুন, Delhi Metro: যুবতীকে দেখে উত্তেজিত, সামনে দাঁড়িয়েই স্বমেহন যুবকের! কেলেঙ্কারি দিল্লি মেট্রোয়…

(Zee 24 Ghanta App দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির লেটেস্ট খবর পড়তে ডাউনলোড করুন Zee 24 Ghanta App)





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version