রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণি বিশেষভাবে উল্লেখ্য। ২ থেকে ৩ দিনের ছুটি বা উইকএন্ড, সুযোগ পেলেই পিঠে ব্যাগ নিয়ে দিঘার সমুদ্রের হাতছানিতে সাড়া দিতে বেড়িয়ে পড়েন পর্যটকরা। সমুদ্রের নোনা হাওয়ায় শরীর ও মনকে করে তোলেন একদম ফ্রেশ। তবে শুধু এগুলিই নয়, ওই জেলায় রয়েছে আরও বেশকিছু দ্রষ্টব্যস্থল, যেগুলি পর্যটকদের কাছে সমান আকর্ষণের। তারই অন্যতম কপালকুণ্ডলা মন্দির। এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Bankim Chandra Chatterjee) স্মৃতিও। সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে কাঁথির দরিয়াপুরের এই মন্দিরে।

ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র
শোনা যায়, ১৮৬০ সালের জানুয়ারি মাসে তৎকালীন নেগুয়া মহকুমার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হয়ে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। নভেম্বরে বদলি হয়ে চলে যান খুলনায়। স্থানীয় নেগুয়া ও কাঁথি মিলিয়ে, দু’জায়গার বাংলোতেই থাকতেন সাহিত্য সম্রাট।

Boro Maa Naihati : বড়মার মন্দিরে ঘটা করে ভূমিপুজো! দুর্গাপুজো শেষ হতেই ভক্তদের জন্য বড় চমক
কাপালিককে দেখেই লেখা হয় কপালকুণ্ডলা
কাঁথির ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীন প্রায়শই দরিয়াপুর ঘুরতে যেতেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। আর নদীর পাড়েই এই মন্দির। কথিত আছে, প্রায়শই ওই মন্দির সংলগ্ন নদীর ঘাটে স্নান করতে আসতেন এক কাপালিক। সেই দৃশ্যই তাঁকে উদ্বুদ্ধ করে কপালকুণ্ডলা উপন্যাস লিখতে। সেই ঘটনায় কল্পনার তুলি বুলিয়ে তিনি রচনা করেন কপালকুণ্ডলা উপন্যাস। সেই মন্দির এখনও রয়েছে। উপন্যাস অনুযায়ী মন্দিরের বাম দিকে বাঁধা ছিলেন নবকুমার। কাপালিকের কন্যাসম কপালকুণ্ডলা তাঁকে উদ্ধার করে ডান দিকের দরজা দিয়ে পালাতে সাহায্য করেন।

কপালকুণ্ডলা মন্দির

Tarapith Kali Mandir : তারা মা ফিরলেন ঘরে! তারাপীঠ মন্দিরে খুশির হওয়া, উচ্ছ্বাস ভক্তদের
নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ
সত্যিই সেই মন্দির রয়েছে রসুলপুর নদীর সামনে। অদূরেই মোহনা। কল্পনার সঙ্গে বাস্তবের কী নিখুঁত যোগ! এই মন্দিরকে ঘিরেই নবকুমার-কপালকুণ্ডলার কাহিনি কলমে ফুটিয়ে তুলেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। কয়েক বছর আগে পুরানো মন্দির ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হয়। তবে মন্দির তৈরি হলেও এখান আর নেই কোনও মূর্তি। প্রতিমা না থাকলেও প্রতিদিন সেখানে পুজো হয়, প্রদীপও জ্বলে। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের উদ্যোগে এই মন্দিরের কাছেই নির্মাণ করা হয়েছে আরও এক নতুন মন্দির। মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো হয় সেখানে। দিঘা ও মন্দামণির পর্যটকদের অনেকেই যাতায়াতের পথে প্রাচীন এই মন্দির দর্শনও করেন। এছাড়া মন্দিরটি সংস্কার করে পর্যটকদের কাছে আরও বেশি করে আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনা গ্রহন করছে স্থানীয় প্রশাসন। এবার দেখার কবে তা বাস্তবায়িত হয়। স্থানীয়দের আশা, মন্দির নতুন করে সংস্কার হলে ওই এলাকায় আরও বাড়বে পর্যটকদের ভিড়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version