২৯ বছর লঘু পাপে ভুগেছেন গুরুদণ্ড। এতদিনে সেই বোঝা থেকে মুক্তি পেলেন প্রাক্তন পুলিশকর্মী শৈলেন দাস। ১৯৭৭ সালে কলকাতা পুলিসের সাব ইনসপেক্টর পদে চাকরিতে যোগ দেন। বিপত্তির সূত্রপাত ১৯৯৩ সালে। সেসময় তিনি পোস্টেড ছিলেন ইএসডি ডিভিশনে। শিয়ালদহ জিআরপির একটি সামান্য মামলায় জড়িয়ে যায় তাঁর নাম। আদালতে শুনানিতে জামিনও পেয়ে যান। কিন্তু পুলিশের বিভাগীয় অন্তর্তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হন। পুলিশ বিভাগের নিয়ম শৃঙ্খলার প্রশ্ন ওঠে। শৈলেন দাসকে সাসপেন্ডের সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন ডিসি অরুণ গুপ্তা।
এই সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি শৈলেন দাস। স্যাটে মামলা করেন তিনি। স্যাট জানিয়ে দেয় শৈলেন বাবুর সঙ্গে যা হয়েছে তা ঠিক নয়। উপযুক্ত বিচার পাননি তিনি। কিন্তু সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্ট মামলা করে রাজ্য। উচ্চ আদালত প্রাথমিক নির্দেশে জানায়, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার দরকার রয়েছে। কিন্তু মামলা চলাকালীনই সাংঘাতিক অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় কোনও আইনজীবী রাখতে পারেননি। ধামাচাপা পড়ে যায় মামলা।
এতদিন পরে হাইকোর্টই কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দেয়, তারা যেন শৈলেন দাসকে খুঁজে বার করেন। তাঁর খোঁজ পেতে বহু কাঠ খড় পোড়াতে হয় পুলিশকে। অনেক খুঁজে তাঁর তৎকালীন সহকর্মীদের জিজ্ঞেস করেও মিলছিল না তাঁর ঠিকানা। শেষে বহু চেষ্টার পর জানা যায় শৈলেন দাসের বর্তমান বাড়ির ঠিকানা। লালবাজারের তরফ থেকে একজন পুলিশ কর্মী খোঁজ নিতে গিয়ে দেখেন তিনি সাংঘাতিক অসুস্থ। চলা ফেরার ক্ষমতা নেই। লালবাজারের তরফেই গাড়ির ব্যবস্থা করে তাঁকে হেডকোয়ার্টারে নিয়ে আসা হয়। সমস্ত ঘটনা আবারও শুনে লালবাজারের শীর্ষ কর্তারা সিদ্ধান্ত নেন ২৯ বছর আগের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।
এই এত বছর ধরে দুর্ভোগ ভোগ করার জন্য দুঃখিত তারা। এখন বয়সজনিত কারণে পুলিশের চাকরি তাঁকে ফেরানো সম্ভব নয়, তাই ২৯ বছর আগের দিন থেকেই শৈলেন দাসকে সমস্ত পেনশন সহ সমস্ত অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
