ভারতের নাগরিকদের কাছে আধার কার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে পরিচয়পত্রে হিসেবে আধার কার্ডের অপরিসীম গুরুত্ব। তেমনই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে মোবাইল নম্বর, সব কিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আধারের তথ্য। আধারের তথ্য হাতবদলের কারণে অনেক সময় সাইবার প্রতারণার ফাঁদে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। সেই আধার কার্ড নিয়েই চরম গাফিলতির ছবি ধরা পড়ল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে।

Cyber Crime : ‘আতঙ্কিত হবেন না, ভুল হলে তবে ভয়’
পুরনো খাতা, বই, লোহা ভাঙচুরের দোকানে মিলবে সরকারি আধার কার্ড। শুনে অবাক হতে হলে বাস্তব চিত্রটা এমনই। আধার কার্ড হয়রানি নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছে সাধারণ মানুষ। এবার তারই সাক্ষী রইল উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট এক নম্বর ব্লকের দণ্ডিহাট পোস্ট অফিস। টাকি রোড সংলগ্ন দণ্ডিহাট এলাকায় ভাঙাচোরার গুদামে পড়ে রয়েছে আধার কার্ড। যত্রতত্র নাম, ঠিকানা ও পরিচয়সহ আধার কার্ড পড়ে থাকতে দেখতে চক্ষু চড়কগাছ স্থানীয়দের।

Calcutta High Court : বাংলাদেশি জঙ্গিদের আধার তথ্য দিতে হবে UIDAI-কে! হাইকোর্টের রায়ে বড় জয় STF-র
বাড়ি বাড়ি থেকে ভাঙাচোড়া, পুরনো বই সংগ্রহ করে কাবারির কাছে বিক্রি করেন ফেরিওয়ালারা। তার মধ্যেই পাওয়া গিয়েছে আধার কার্ড। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া আধার কার্ডগুলির অধিকাংশই বসিরহাট ১ নম্বর ব্লকের বিভিন্ন ঠিকানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাসিন্দাদের। আধার কার্ড থেকে পাওয়া ফোন নম্বরে ফোন করে ভাঙাচোরার দোকানের মালিক ফিরিয়ে দিচ্ছেন। আর এতেই চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন আধার কার্ডের গ্রাহকরা। দণ্ডিহাট পোস্ট অফিস থেকে উচ্ছিষ্ট সরঞ্জামের সঙ্গেই আধার কার্ড গুলি ওখানে গিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তাঁরা। পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষও কার্যত গাফিলিতর কথা মেনে নিয়েছেন।

Cyber Crime : বায়োমেট্রিক তথ্য চুরি, ফাঁদে কলকাতার বাসিন্দাও
ভাঙাচোরার দোকান থেকে আধার উদ্ধার হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। সাদ্দাম হোসেন গাজি নামে এক উপভোক্তা বলেন, ‘গত এক বছর আগে আধার কার্ড করতে পোস্ট অফিসে সঠিক নথিপত্র নিয়ে বারবার দরবার করেছি। আধার কার্ড হয়ে গেলেও আর পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেল পুরনো খাতা বই ও ভাঙ্গাচোরার দোকানে। কী দুর্দশা আমাদের।’ এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ কার্যত স্বীকার করেছে নিয়েছে পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষ। পোস্টমাস্টার দেবস্মিতা সাউ বলেন, ‘আমি ছ’মাস আগে পোস্ট মাস্টার হিসেবে এখানে কাজে যোগ দিয়েছি। এখান থেকে কী ভাবে আধার কার্ড বাইরে গেল বুঝতে পারছি না। প্রাক্তন পোস্টমাস্টার সনত মল্লিক যিনি ছিলেন তিনি এখন বর্তমানে পোস্টমাস্টারের পদে নেই অন্য পদে রয়েছেন। তিনি হয়তো বলতে পারবেন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version