দেবজ্যোতি ঘোষ

এ ভাবেও জিতে যাওয়া যায়। মাউন্টেনিয়ারিংয়ের দুনিয়ায় নজির গড়লেন শ্যামবাজারের অরিজিৎ দে। প্রথমে বেস ক্যাম্প এবং তারপর ক্যাম্প ওয়ান, ক্যাম্প টু এবং ক্যাম্প থ্রি পার করে যখন এগিয়েছিলেন মানাসলু শৃঙ্গের দিকে, তখন তাঁর ব্যাকপ্যাকে কোনও অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিল না। টেন্ট ছিল, তবে তাকে মাথা গোঁজার একটা সামান্য ছাউনি ছাড়া কিছু বলা যায় না। খাবারের পরিমাণও নামমাত্র।

এক কথায় বলতে গেলে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করতে গেলে ঠিক যেটুকু সামগ্রী না হলে নয়, অরিজিতের সঙ্গে ঠিক সেইটুকুই ছিল। পর্বতারোহীদের ভাষায় একেই বলে অ্যালপাইন স্টাইল ক্লাইম্বিং। এই পদ্ধতিতে এগিয়ে পৃথিবীর অষ্টম উচ্চতম মানাসলু শৃঙ্গ জয় করলেন শ্যামবাজার সরকাবাগানের এই বাসিন্দা। অরিজিৎই প্রথম এশীয় হিসেবে এমন নজির গড়লেন। তাঁর আগে মাত্র দু’জন পর্বতারোহী এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। দু’জনই ইউরোপীয়।

Arijit Singh And Badshah : বিরাট খবর! স্কুটি চেপে অরিজিৎ-র বাড়িতে বাদশা, জওয়ানের সাফল্যের মাঝে ফের সুখবর?
লক্ষ্য ছিল ৮,১৬৫ মিটার উঁচু মানাসলু শৃঙ্গ। সেই অভিযানের জন্য প্রথমে কাঠমান্ডু থেকে গাড়িতে ধারাপানি পৌঁছে সেখান থেকে মাত্র ৩ ঘন্টার মধ্যে লারকে পাস পার করে সামগাঁও হয়ে বেসক্যাম্প পৌঁছন অরিজিৎ। তারপর এক এক করে ক্যাম্প ওয়ান, ক্যাম্প টু এবং ক্যাম্প থ্রি। এই জায়গাতেই এসেই সেরে নিতে হয়েছিল অ্যাক্লাইমেটাজ়েশন বা কঠিন পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার কাজ।

অরিজিতের এই পর্বতারোহণ অবশ্য অন্যদের তুলনায় অনেকটাই কঠিন ছিল। তার কারণ যাত্রাপথে তিনি সঙ্গে কোনও শেরপাকে গাইড হিসেবে নেননি। এছাড়া শৃঙ্গ জয়ের জন্য যেটুকু না হলে নয়, শুধু সেইটুকু জিনিসপত্রই নিজের ব্যাকপ্যাকে রেখেছিলেন। একা ছিলেন, তাই নিজেকেই ২৮ কেজির ওই ব্যাগ বইতে হয়েছিল। সেই ভাবে এগিয়েই প্রথমে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫:৩০টা নাগাদ সামিট করেন।

Hilsa Fish: সস্তা হবে পদ্মার ইলিশ? বাংলাদেশকে রফতানির সময় বাড়ানোর অনুরোধ
২৫ তারিখ রাত ১১টায় ফিরে আসেন বেসক্যাম্পে। একাকী বা সোলো মাউন্টেনিয়ার হিসেবে এগোলেও রাস্তায় তাঁর সঙ্গে দেখা হয়ে যায় রুশ পর্বতারোহী আর্টনের।
মানসলুর চূড়ায় দাঁড়িয়ে একে অপরের ছবি তুলে দেন তাঁরা। বেসক্যাম্প থেকে অরিজিৎ এই সময়-কে বলেন, ‘অনেকেই ১২-১৩ লক্ষ বা তার চেয়ে বেশি টাকা খরচ করে ৮ হাজার মিটারের চেয়ে উঁচু শৃঙ্গ জয়ের চেষ্টা করেন।

কিন্তু অ্যালপাইন ক্লাইম্বিং করলে এর চেয়ে অনেক কম টাকাতেই হয়ে যায়। নতুন প্রজন্মের পর্বতারোহীদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই আমি যাত্রা শুরু করেছিলাম।’ অরিজিৎ জানিয়েছেন, এর আগে ২০২১ এবং ২০২২-এও তিনি মানসলু অভিযান করেছিলেন। তবে কোনও বারই শৃঙ্গজয় হয়নি। অরিজিৎ এর আগে ৬ মিটার উচ্চতার বেশ কয়েকটা শৃঙ্গ জয় করেছেন।

Home Lone : মধ্যবিত্তের গৃহঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিরাট স্বস্তি! বাটা জমির চরিত্র বদলের তথ্য উঠবে সরকারের খাতায়
তৃতীয় প্রচেষ্টার পর মানসলু জয় করতে পেরে খুশি অরিজিৎ জানাচ্ছেন, শুধু প্রাকৃতিক বাধা নয়, পারিপার্শ্বিক থেকেও বাধা আসে। স্থানীয় শেরপারা সোলো মাউন্টেনিয়ার দেখলেই বাগড়া দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু শৃঙ্গজয়ের জেদ থাকলে সে সব কোনও বাধাই নয়। ৩১ বছর বয়সী এই পর্বতারোহী একটা সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি করতেন।

কিন্তু সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি ন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার স্কুল নামে একটি প্রশিক্ষণ শিবির তৈরি করেন। এখানে পর্বতারোহণের খুঁটিনাটি, রক ক্লাইম্বিং, গ্লেসিয়ার ট্রেনিং আরও অন্যান্য বিষয় শেখানো হয় ও যাঁরা পাহাড় ভালোবাসেন তাঁদের ট্রেকিংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সমস্ত ব্রেকিং নিউজ, আপডেট, বিশ্লেষণ এবং ভিডিয়ো দেখতে ক্লিক করুন এই সময় ডিজিটাল চ্যানেল। https://whatsapp.com/channel/0029Va9zh58Gk1Fko2WtDl1A



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version