এই সময়: একই দিনে দুই জেলা স্কুল ইন্সপেক্টর বা ডিআইকে পদ থেকে অপসারণের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। দু’টি আলাদা মামলায় পৃথক কারণে মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিআইকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

প্রথম ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের এক শিক্ষিকার বদলি সংক্রান্ত। সেখানে দু’সপ্তাহের মধ্যে মুর্শিদাবাদের ডিআইকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। নদিয়াতে নিজের বাড়ির কাছে বদলির আবেদন জানিয়ে আদালতের দারস্থ হয়েছিলেন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা বনানী ঘোষ। আদালতে তাঁর তরফে জানানো হয়েছিল, তাঁর সন্তান জটিল রোগে আক্রান্ত এবং স্বামী ৬০ শতাংশ বিশেষভাবে সক্ষম।
Calcutta High Court : কেন প্রকাশ নয় মেরিট স্কোর! জানাতে হবে কমিশনকে, নির্দেশ হাইকোর্টের
তাই শিক্ষিকাকে বাড়ির কাছে কোনও স্কুলে বদলি করলে সুবিধা হয়। এদিন আদালতে তাঁর আইনজীবী উজ্জ্বল রায় বলেন, ‘স্কুল কোনওভাবেই এই বদলির ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছে না। উলটে তারাই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’ এর আগে আদালত ওই স্কুলে কতজন শিক্ষক আছেন, তা জানতে চেয়ে ডিআইয়ের রিপোর্ট তলব করে। স্থায়ী শিক্ষকের সঙ্গে প্যারাটিচারের সংখ্যা যোগ করে একটি রিপোর্ট দেন ডিআই।

অথচ অন্য একটি মামলায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, বদলির ক্ষেত্রে টিচার ও প্যারাটিচারের সংখ্যা এক করে দেখা যাবে না। তারপরেও পুরোনো হিসেবে রিপোর্ট দেওয়ায় আদালত তা ভুল রিপোর্ট বলে চিহ্নিত করে। আর সেই ‘অপরাধে’ ডিআইকে পদ থেকে অপসারণের নির্দেশ দেন বিচারপতি।

Calcutta High Court : ‘২১ জুলাইয়ের কথা বললে…’, গ্রুপ ডি চাকরিপ্রার্থীদের মিছিলে পুলিশের আপত্তিতে প্রশ্ন আদালতের
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ডিআই যে কাজ করেছেন, তা আদালত ভালো চোখে দেখছে না। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে মামলাকারীকে বাড়ির কাছের কোনও স্কুলে বদলি করতে নির্দেশ দেয় আদালত। ৫ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি। সেদিন রাজ্যকে রিপোর্ট জমা দিয়ে নির্দেশ কার্যকরের বিষয়ে জানাতে হবে।

অন্য একটি মামলায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিআইকে প্রথমে তাঁর ভুলের জন্য ক্ষমা করে দিলেও শেষ পর্যন্ত এজলাসে তাঁর আচরণের জন্য তাঁকে সরানোর নির্দেশ দেন বিচারপতি। শিক্ষা দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে এই মর্মে নির্দেশ দেয় আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ডিআইয়ের অভিব্যক্তি এবং ব্যবহারে যথেষ্ট ঔদ্ধত্য রয়েছে।

Justice Abhijit Ganguly: ‘আর কোনও আধিকারিকের দরকার নেই…’, আদালতে মন্তব্য করে CBI ডিরেক্টরকে তলব বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের
ফ্যামিলি পেনশন সংক্রান্ত একটি মামলায় এদিন ওই ডিআইকে তলব করেছিল আদালত। মামলাকারীর আইনজীবীর অভিযোগ, তাঁর মক্কেল যখন ডিআই অফিসে যান পেনশনের বিষয়ে কথা বলতে, তখন উনি কথা বলার প্রয়োজন বোধ করেননি। ডিআইয়ের আইনজীবী কল্লোল বসু আদালতকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, এত বছর চাকরি করার পর ডিআই প্রথমবার আদালতে এসে নার্ভাস হয়ে গিয়েছেন। যদিও আদালত সেই কথায় আমল দেয়নি।

এই ক্লিকেই জানুন প্রতি মুহূর্তের ব্রেকিং নিউজ, আপডেট, বিশ্লেষণ এবং ভিডিয়ো এই সময় ডিজিটাল চ্যানেলে। https://whatsapp.com/channel/0029Va9zh58Gk1Fko2WtDl1A



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version