আশিস নন্দী, দেগঙ্গা

সাত লহরির নেকলেস, চুড়ি, নথ, মাথার মুকুট তৈরিতে ব্যস্ত ওঁরা। ওঁদের গয়না পরেই সাজবেন দেবী দুর্গা। পুজোর বাকি আর কয়েকটা দিন। এর মধ্যেই দেবীকে গয়না পরাতে হবে। তাই নাওয়া-খাওয়া ভুলে গয়না তৈরির কাজ করছেন দেগঙ্গার গয়নাপাড়ার শিল্পীরা। তবে এখন মহিলা শিল্পীরাও গয়না তৈরি করছেন। তাতে তাঁরাও স্বনির্ভর হচ্ছেন।

প্রতি বছর দেগঙ্গার গয়নাপাড়ার গয়না কলকাতা, জেলার বিভিন্ন জায়গা এমনকী ভিন জেলাতেও যায়। কিন্তু এ বছর এখানকার গয়না পাড়ি দেবে বাংলাদেশেও। উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা ব্লকের কালিয়ানি, কার্তিকপুর, বিশ্বনাথপুর গ্রামের কমবেশি একশোটির বেশি পরিবার প্রতিমার সাজের জিনিস তৈরির কাজে যুক্ত। দেগঙ্গার পালপাড়া গয়নার আঁতুড়ঘর বলে পরিচিত।

Durga Puja Pandal : মাটি রক্ষায় ভুট্টা দিয়ে দুর্গা প্রতিমা! প্রাক্তন পুলিশকর্মীর ‘শিল্প’ দেখতে তুঙ্গে উৎসাহ
অধিকাংশ বাড়িতেই তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ডিজাইনের গয়না। ডাকের সাজ, জরি, চুমকি দিয়ে ঠাকুরের গয়না তৈরিতেই এখন দিনরাত এক করে কাজ করছেন পালপাড়ার আট থেকে আশি। বছরভর গয়নার চাহিদা থাকলেও দুর্গাপুজোর সময় তাঁদের বিক্রি বেশি। প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এই কাজ করছেন এলাকার মানুষ। এলাকার অর্থনীতি অনেকটাই দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রতিমার এই সাজশিল্পের ওপর।

Durga Puja Mahalaya 2023: এখনই উপচে পড়া ভিড় ! কল্যাণীর ITI মোড়ের পুজোয় এবারও মেগা ধামাকা , ৫০ কোটির গয়নার মোড়া প্রতিমা
শিল্পী সুশান্ত পাল বলেন, ‘দুর্গাপুজোর সময় আমাদের ব্যস্ততা তুঙ্গে থাকে। গয়না কলকাতার মহাজনদের কাছে বিক্রি করি। পরে সেগুলিই চলে যায় বিভিন্ন প্রান্তে। পুরুষ শিল্পীরা ডিজাইন করে বাড়ি বাড়ি চুমকি-সহ প্রয়োজনীয় পণ্য দিয়ে আসি। মহিলারা বাড়িতে বসে ফিনিশিংয়ের কাজ করেন।’ শিল্পী সৌমেন পালের গয়না তৈরির কারখানায় মূলত মহিলারা কাজ করেন।

তিনি বলেন, ‘এ বছর আমার কারখানায় তৈরি প্রতিমার গয়না, সাজের জিনিস বাংলাদেশেও যাবে।’ জয় সরকার নামে এক কলেজ পড়ুয়া বলেন, ‘আমি মোটামুটি সাজের সব কাজই কমবেশি জানি। পড়াশোনার ফাঁকে এই কাজ করি। পড়াশোনার জন্য বাড়ির থেকে টাকা নিতে হয় না।’

Durga Pujo 2023 : ফাইবারের বদলে বিদেশে যাচ্ছে পেপার পাল্পের দুর্গা
সাজশিল্পী রতন পালের বয়স ৭০ ছুঁই ছুঁই। তবু কাজ ছাড়েননি। তিনি বলেন, ‘চাহিদা বাড়লেও আগের তুলনায় লাভ কমেছে। কাঁচামালের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। ফলে লাভের গুড় পিঁপড়েয় খাচ্ছে। কাঁচা পণ্যের দাম বাড়লেও কেউই অতিরিক্ত দাম দিতে চাইছেন না।’

https://whatsapp.com/channel/0029Va9zh58Gk1Fko2WtDl1A



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version