পুজোর পাঁচ দিন দেবীকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন চক্রবর্তী পরিবারের সদস্যরা। শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবটা এমনই। বাংলার ১১৩৫ সালে পুজো শুরু হয় ভদ্রেশ্বরের বিঘাটি গ্রামের ধোপাপুকুরের চক্রবর্তীর পরিবারে। তৎকালীন সময়ে ওই বংশের পূর্বপুরুষরা তন্ত্রসাধনা করতে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই পণ্ডিত ছিলেন। সাক্তমতে মাতৃ আরধনা করতেন সাধকরা। পরবর্তীকালে তাঁরাই শিক্ষকতা ও পৌরহিত্য করেন।

কথিত আছে, চক্রবর্তী পরিবারের দুর্গাপ্রতিমা কাঁপতে শুরু করে। তাই পুজোর ৫ দিন যাতে প্রতিমা পড়ে গিয়ে পুজোর কোনো রকম ব্যাঘাত না ঘটে সেই কারণে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় দুর্গাকে। বংশপরম্পরায় চলে আসা সেই রীত। আজও চক্রবর্তীর পরিবারের বংশধরা পালন করেন এই রীতি। ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী এই পাঁচ দিন শিকল দিয়ে দেবীকে বেঁধে রাখেন পরিবারের সদস্যরা।

চক্রবর্তী পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে মাটির মন্দিরে তালপাতার ছাউনিতে পুজো হত। পরে বাঁশ ও টালির ছাউনি দেওয়া হয় মন্দিরে। বর্তমানে নতুন করে পাকা দুর্গা দালান তৈরি করে সেখানেই মায়ের পুজো হয়। এখানে সিংহ বাহিনী মা দুর্গা অসুরের সঙ্গে লক্ষ্মী ,গণেশ, সরস্বতী ও কার্তিক কে নিয়ে এক চালায় অধিষ্ঠিত। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এক অলৌকিক গল্প। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এক মন্বন্তরের সময় পুজো করতে পারছিলেন না বংশের পূর্বপুরুষেরা। পুজো প্রায় বন্ধ হওয়ার মত উপক্রম হয়েছিল। তখনই স্বপ্নে দেবী আদেশ দেন পাশের সাঁতরা বাড়ির কলাগাছে থোর ও মান্না বাড়ি থেকে ঘি দিয়ে পুজো করতে। সেই থেকেই চলে আসছে নবমীর দিন থোরের নৈবিদ্য দিয়ে পুজো দেওয়ার রীতি।

পুজোয় প্রতিদিন অন্য ভোগের সঙ্গে তিন দিন বলি প্রথা রয়েছে। তার মধ্যে সন্ধি পুজোয় ছাগ বলির প্রচলন রয়েছে। আনুমানিক ২৯০ বছর ধরে এখনও নিষ্ঠার সাথে পুজো হয়ে আসছে চক্রবর্তী বাড়িতে। বর্তমান বংশধর পণ্ডিত নারায়ণ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা পণ্ডিত ছিলেন। শিক্ষকতা ও পুজো অর্চনা করতেন। আমাদের বাড়ির দুর্গা পুজো কালিকা পুরাণ মতে হয়। আমরাই পুজো করি।সপ্তমী অষ্টমী নবমী পুজোয় অন্ন ভোগ দেওয়া হয়।অতীতে আর্থিক অভাব থাকায় পুজোয় করা যাচ্ছিল না। ফল কিনতে পারেননি আমাদের পূর্বপুরুষরা। সেই সময় পাশের বাড়ির কলা গাছের থর দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়।নবমীর দিনই দুধের পিঠা পুলি ভোগ দেওয়া হয়।’

Krishnanagar Rajbari Durga Puja : হোমকুণ্ড জ্বলে নয় দিন, চমকপ্রদ কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির পুজোর রীতি
পরিবারের এক বয়স্ক সদস্য রাসবিহারী চক্রবর্তী বলেন, ‘এখানে একচালায় মা দুর্গা ছেলে মেয়ে নিয়ে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। শিউলি ফুলের বোঁটার রঙের গায়ের রঙ হয় মায়ের।অসুরের গায়ের রং খয়েরি হয়। মহালয়ের পর প্রতিপদ থেকে নবাবৃত্তির পুজো পাঠ শুরু হয়। সন্ধি পুজোয় সময় মাটির প্রতিমায় মা অধিষ্ঠিত হতেন। সেই সময় প্রতিমার কাঠামো কাঁপে। সেই সময় যাতে পড়ে গিয়ে কোনও অঘটন না হয় তার জন্য পিছন থেকে শিকল দিয়ে বাঁধা রাখা হয়।সেই থেকে এই নিয়ম চলে আসছে।দশমীর দিন বিসর্জনে মা দুর্গাকে দোলায় অর্থাৎ বাঁশে করে নিয়ে যাওয়া হয়।’

ফলো করুন এই সময় হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল। ক্লিক করুন



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version