মঙ্গলবার বিজয়া দশমী। মায়ের বিদায় নেওয়ার পালা। তাই মন সকলেরই কমবেশি ভারাক্রান্ত। কিন্তু তারও মাঝে কলকাতাবাসীর জন্য বিশেষ এক সুযোগ। ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০০ মিটার ওপরের একটি ভিউ পয়েন্ট থেকে রাবণ বধ ও বিজয়া উদযাপনের জন্য তাঁরা তৈরি। শহরে লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে রাবণ বধ শোয়ের আয়োজন করা হয়েছে। আর তা দেখার জন্য শহরের কেন্দ্রস্থল পার্ক সার্কায় ময়দানে ৫০ হাজার মানুষের জমায়েত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দশেরায় অভিনব শো
এটি মূলত একটি ড্রোন শো। দু’টি সংস্থা মিলে ঐতিহাসিক এই রাম-রাবণে যুদ্ধ তুলে ধরতে চলেছে কলকাতার আকাশে। সম্ভবত এটিই হতে চলেছে পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় ড্রোন আলোকসজ্জা ইভেন্ট। এই প্রসঙ্গে আয়োজন অর্জুন ধাওয়ান সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘যদি চিন পারে, তাহলে বাংলা কেন পারবে না?’ তিনি জানান, কোনও ব্র্যান্ডের প্রোমোশানের জন্য প্রায়শই ড্রোন আলোকসজ্জা ব্যবহার করা হয়। তবে দশেরা বা রাবণ বধের মতো অনুষ্ঠানে এর অন্তর্ভুক্তি অভিনব।

৬০০ ড্রোনের মাধ্যমে শো
অর্জুন ধাওয়ান আরও জানান, দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলর মোট ১৫ জন বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন ড্রোন টেকনিশিয়ান বর্তমানে শো-টির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন। তাঁরা আকাশে জিও ফেন্সিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কোডিং সেট-আপ করছেন, যাতে শো নিখুঁতভাবে তুলে ধরা যায়। গোটা শো-টি হবে ৬০০ ড্রোনের মাধ্যমে, যা নিয়ন্ত্রিত হবে একটি কম্পিউটার থেকে। আয়োজকরা কলকাতার বুকে ঘটতে চলা দৃশ্যকে ২০২০ সালে চিনের সাংহাইতে নিউ ইয়ার সেলিব্রেশান বা শেনজেনে সাম্প্রতিকাকেল ড্রাগন বোট শোকেসের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেছেন। সমগ্র শোয়ের বাজেট প্রায় ১ কোটি টাকা।

প্রসঙ্গত, পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে দশেরার দিনেই রাবণকে বধ করেছিলেন রামচন্দ্র। আবার মহিষাসুর বধের পর এই দিনেই শ্বশুরবাড়ি ফিরে যান দেবী দুর্গা। তাই পৌরণিক ও ধর্মীয় দিক থেকে এই দিনটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেক্ষেত্রে শহর কলকাতার বুকে দশমীর দিন এমন এক শো একেবারেই অভিনব উদ্যোগ, এবং তা যথেষ্টই সাড়া ফেলবে বলে আশাবাদী আয়োজকরা। ৪ দিন বাপেরবাড়িতে কাটিয়ে ফিরে যাবেন উমা। মন খারাপের মধ্যে দিয়েই আবার শুরু হবে ১ বছরের অপেক্ষা। কিন্তু এই অভিনব শো সেই মন খারাপকে কিছুটা হলেও ভালো করতে পারে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version