প্রায় ১৪ বছরের প্রয়াস অবশেষে বাস্তবায়িত হল। নৈহাটির বড়মা কালীর নতুন মন্দিরে এসে পৌঁছল কষ্টি পাথরের তৈরি বড়মার মূর্তি। যদিও এখনও সর্বসম্মুখে তুলে ধরা হয়নি নবনির্মিত কষ্টিপাথরের বড়মার মূর্তির কোন ছবি। মন্দির কমিটির তরফ থেকে জানানো হয়, এখনও নতুন মূর্তির দর্শন পেতে অপেক্ষা করতে হবে বেশ কয়েকদিন। কারণ- আগামী কয়েকদিন চলবে শুদ্ধিকরণ ও প্রতিষ্ঠার কাজ। বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়েছে এই সপ্তাহেই। আর তারপরেই সর্বসাধারণের দর্শনের জন্য খুলে দেওয়া হবে নবনির্মিত মন্দির দেখা মিলবে কষ্টিপাথরের বড়মার মূর্তিও।

এবছরই নৈহাটির জাগ্রত বড়মার মন্দিরের ১০০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর তাই মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে নানা বিশেষ অনুষ্ঠান। পুজো পাঠ, মহাযজ্ঞ কর্মসূচি এবং নতুন মন্দিরের দ্বার উদঘাটন কর্মসূচিও রয়েছে বলে জানান মন্দির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য। এদিন সুবিশাল শোভাযাত্রা ও নাম কীর্তন সহযোগে বড়মার কষ্টি পাথরের মূর্তি নিয়ে আসা হয় নবনির্মিত মন্দির প্রাঙ্গণে। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা দেখতেও রাস্তার দু’ ধারে নামে মানুষের ঢল। তবে ২৯ তারিখ অর্থাৎ ২৯ অক্টোবর মাকে দেখা যাবে সশরীরে তার আগে কোনভাবেই ভক্তদের জন্য প্রবেশ নিষেধ করল মন্দির কমিটি। এই কয়েকদিন বন্ধ থাকবে মন্দির। ফলে ভক্তরাও পুজো দিতে পারবেন না বলেই জানা গিয়েছে। মায়ের নতুন মূর্তি শুদ্ধিকরণ শেষে তার উদঘাটন হলেই আবার প্রকাশ্যে দেখা মিলবে বড়মার।

এদিন থেকেই কার্যত উৎসবের চেহারা নিল নৈহাটির অরবিন্দ রোড। মন্দিরের সেবায়েত জানান, এতদিন ধরে বড়মার ফটোই পূজিত হত সারা বছর ধরে। নবনির্মিত কষ্টিপাথরের মূর্তি প্রতিস্থাপন হলেও পাশেই রাখা থাকবে সেই চেনা বড়মার ছবি। কাল থেকেই মন্দিরের চূড়ায় ধ্বজা এবং কলস পুজো রয়েছে। পরবর্তীতে রয়েছে দেবীর অধিবাস পুজো। দেবীর মহাস্নান শেষে দেবীর স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কার দ্বারা শৃঙ্গার অনুষ্ঠান করা হবে। এরপর হবে দেবীর মূল ঘট স্থাপন।

Barasat Champadali : ‘নো এন্ট্রি’ চাঁপাডালি মোড়, বৃহস্পতিতে বন্ধ গাড়ি চলাচল! বারাসতে হয়রানির আশঙ্কা
২৯ তারিখ বেলা ১২.৫০ মিনিটে মন্দিরের দ্বার উদঘাটন করবেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলে জানা গিয়েছে। এদিন বড়মা ঘরে আসার আনন্দে অরবিন্দ রোডের বড়মার মন্দির চত্বর সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। নবনির্মিত মন্দির ছাড়াও তৈরি হয়েছে অতিথি নিবাস। নৈহাটি এই বড় মাকে নিয়ে মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সীমা নেই। দূর দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ আসেন মা কালীর দর্শনে। দেশ দেশান্তরের মানুষ এসে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে যান। মাকে কিছু চাইলে খালি হাতে কাউকেই ফেরান না মা, আর তাই এই জাগ্রত মায়ের কৃপা লাভে হাজার হাজার মানুষ আকৃষ্ট হন দেবী বন্দনায়। আর তাই হয়তো বলে ধর্ম হোক যার যার, বড়মা সবার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version