দীর্ঘ কয়েকমাস পর বৃহস্পতিবার কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির ‘অতি সক্রিয়তা’ নিয়ে আক্রমণের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবার নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে অভিষেকের সংস্থায় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে তল্লাশি চালিয়েছিল ED। অভিষেকের পাশাপাাশি তাঁরা বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়, মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ED দফতরে তলব করা হয়। সেই নিয়েও মুখ খুলেছেন মমতা। কার্যত অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

অভিষেকের পাশে ‘দিদি’ মমতা

রাজ্যের একাধিক মন্ত্রীর বাড়িতে হানা দিয়েছে ED-CBI এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থা। অভিষেক প্রসঙ্গে মুখ খোলার পাশাপাশি সেই ইস্যুতেও মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, ‘প্রত্যেকদিন আমার মন্ত্রী ও তাঁদের পরিবারকে বিরক্ত করা হচ্ছে। পুজোর সময়ও রেয়াত করা হল না। আর আমার পরিবারের কথা তো ছেড়েই দিন! একই প্রশ্ন বারবার করা হচ্ছে। অভিষেকের থেকে ৪২ বছর আগের নথি চেয়েছে। তখন তো অভিষেকের জন্মই হয়নি। ওঁর ১৯৮৭ সালে জন্ম হয়েছে। অভিষেকের বাবার থেকে ছেলে সম্পর্কিত ১৯৮১-১৯৪২ সালের নথি চেয়েছে। এদিনে তখন তো তাঁর জন্মই হয়নি।’

Mamata Banerjee : ‘বলতে বাধ্য হচ্ছি…’, জ্যোতিপ্রিয়র বাড়িতে ED অভিযান নিয়ে মুখ খুললেন মমতা
দলীয় সতীর্থদের পাশে থাকার বার্তা

রাজ্যের একাধিক মন্ত্রীর বাড়িতে ED-CBI অভিযান নিয়ে এদিন ফের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন মমতা। রেশন দুর্নীতি মামলায় বৃহস্পতিবার খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের একাধিক বাড়িতে চলছে ED-র তল্লাশি। সেই নিয়ে জ্যোতিপ্রিয়র পাশে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বলেন, ‘বিজয়া করতে গিয়ে মানুষ দেখছে জ্যোতিপ্রিয়র বাড়িতে ইডি ঢুকে বসে রয়েছে। ও এখন খাদ্য দফতরের মন্ত্রী নেই। জ্যোতিপ্রিয়র শরীর খারাপ। ওঁর প্রচুর সুগার। কাল যদি মারা যায় তাহলে ইডি-বিজেপির বিরুদ্ধে এফআইআর করব।’

বিস্ফোরক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর

মমতার অভিযোগ, নির্বাচনের আগে সব সময় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে একই ঘটনা ঘটে। রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে সামনে নির্বাচন। সেখানেও কেন্দ্রীয় এজেন্সি বিরোধী দলের নেতানেত্রীদের হেনস্থা করছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় এজেন্সি গুলির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল হতেই কোনও না কোনও নেতা-মন্ত্রীর বাড়িতে হানা দিচ্ছে ইডি। একইসঙ্গে চলছে শারীরিক নির্যাতন। গোপনাঙ্গেও চলছে অত্যাচার। এর ওঁর নাম বলানোর চেষ্টা করছে। যতক্ষণ নাম না বলবে, ততক্ষণ অত্যাচার চলবে। আমাকে অনেকেই এই কথা বলেছে। কিন্তু প্রকাশ্যে বলার সাহস পাচ্ছে না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version