৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বদলির নির্দেশ কার্যকরী করা যাবে না বলে জানিয়েছে আদালত। ওই দিন হবে পরবর্তী শুনানি। তার আগে রাজ্যকে হলফনামা দিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে হবে। রাজ্যের আইনজীবী তপন মুখোপাধ্যায় বলার চেষ্টা করেন, জনস্বার্থে সরকার বদলি করতেই পারে। বিচারপতির পালটা বক্তব্য, এর আগে কত বার এই ধরনের বদলি হয়েছে? কমজিউমার ফোরামের জুডিশিয়াল মেম্বারের বদলি কি প্রথম?
শুভ্রশঙ্কর ভট্ট নামে কনজিউমার ফোরামের সদস্যকে (অবসরপ্রাপ্ত বিচারক) হঠাৎই বদলি করা হয় আসানসোলে। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে তিনি হাইকোর্টে মামলা করেন। তাঁর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় ও সন্দীপন দাসের বক্তব্য, কনজিউমার ফোরামের কিছু আইনজীবীর স্বার্থে আঘাত লাগছে বলেই শুভ্রশঙ্করের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে বদলি করা হয়েছে। তিনি কলকাতার বাসিন্দা।
ওই বিচারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছিল। তার কোনও তদন্তের আগেই তাঁকে বদলি করা হয়েছে আসানসোলে। অথচ এই পদে বদলির কোনও বিধান নেই। রাজ্যের বক্তব্য, আসানসোল-সহ মোট তিনটি বেঞ্চ রয়েছে রাজ্যে, সেই বেঞ্চ চালানোর জন্যেই রুটিন বদলি। যাবতীয় নথি দেখার পরে বিচারপতির বক্তব্য, এটা বিভাগীয় মুখ্যসচিবের ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই নির্দেশ স্থগিত করা হচ্ছে।
কারণ, অভিযোগ জমা পড়া, তার তদন্ত শুরুর মাঝে বিচারকের জবাব চাওয়ার মধ্যেই যে ভাবে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাতে আদালতের মনেও প্রশ্ন রয়েছে। ওই বিচারককে কিছু আইনজীবী মনোমতো কাজ না হলে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। সেই বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
বিচারপতির বক্তব্য, ‘আমরা প্রশাসনকে ন্যায়ব্যবস্থায় দখল নিতে দিতে পারি না। যদি সেই অনুমতি দেওয়া হয়, তা হলে সেটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যাবে। এই ধরনের বদলির নির্দেশ এই প্রথম। এতে যদি অনুমতি দেওয়া হয় তা হলে এটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।’