মা লক্ষ্মীর বাহন প্যাঁচা বলেই আমরা জানি সকলে। তবে মা লক্ষ্মীর বাহন হাতি! হ্যাঁ, এমনটাই হয় বাঁকুড়া জেলায় গঙ্গাজলঘাটির জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের পুজোয়। হাতির তাণ্ডব থেকে বাঁচতে গজলক্ষ্মীর পুজো করেন গ্রামবাসীরা। বহুযুগ ধরে হয়ে আসা এই পুজোয় মেতে ওঠেন গ্রামবাসীরা।

কীভাবে শুরু পুজো?

এক এক করে কেটে গিয়েছে একশো ১২৫ টি বছর। আর এই সময়কালের আগে গজরাজের আক্রমণের হাত থেকে জমির ফসল বাঁচাতে গঙ্গাজলঘাটির জঙ্গল লাগোয়া রামকানালী গ্রামে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর দিন শুরু হয়েছিল ‘গজলক্ষ্মী’র পুজো। সেকারণেই এখানে চিরাচরিত পেঁচা থাকলেও দেবী লক্ষ্মী গজরাজ অর্থাৎ হাতির পিঠে অধিষ্ঠাত্রী।

কেন এই পুজোর আয়োজন?

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, জঙ্গল লাগোয়া কৃষি প্রধান এই গ্রামে প্রায়শই ঢুকে পড়ে হাতির দল। জমির ফসল বাঁচাতে হিমশিম অবস্থা ওই গ্রামের মানুষের। ১২৫ বছর আগে দেবী লক্ষ্মী ও হাতিকে একই সঙ্গে তুষ্ট করতে ‘গজ লক্ষ্মী’র আরাধণা শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে স্থায়ী মন্দির নির্মাণ করে এই পুজো হচ্ছে বলে গ্রামের মানুষ জানিয়েছেন।

গ্রামবাসীরা কী বলছেন?

গ্রামবাসী দিলীপ শীট বলেন, ‘আমাদের এই এলাকা মূলত কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু চাষের জমিতে হাতির উপদ্রব বরাবর। তবে মাঠে ধান পাকার মরশুমে হাতিদের উপদ্রব বেশি দেখা যায়। সেকারণেই গজরাজের আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে এখানে শস্যের দেবী লক্ষ্মীর বাহন হাতি বলে তিনি জানান। গৃহবধূ অনুপমা শীট, শিউলী শীটরা বলেন, আমাদের গ্রামে দুর্গা পুজো হয় না। সেই দুর্গা পুজোর আনন্দই আমরা গজ লক্ষ্মী পুজোতে করি। প্রতিদিন নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিসর্জনে সিঁদুর খেলার রীতিও চালু আছে। একই সঙ্গে তারা আরো বলেন, জঙ্গলের হাতির আক্রমণে মাঠের শস্য বাঁচাতেই গজলক্ষ্মী পুজোর সূচনা। আর সেই প্রথা এখন চলে আসছে বহু বছর ধরে।

Laxmi Puja 2023 : মণ্ডপ সাজান শম্ভুনাথ, প্রতিমা আনেন মেহের আলি! সম্প্রীতির লক্ষ্মীপুজো বাঁকুড়ায়
দেবী লক্ষ্মী এখানে হাতির পিঠে অধিষ্ঠাত্রী। এছাড়াও দুই দিকে দুই সখী বেষ্টন করে থাকে দেবী প্রতিমাকে। একচালার প্রতিমার ওপরে দুই পাশে থাকে দুই ময়ূর। এই অভিনব আদলে তৈরি লক্ষ্মী প্রতিমাই এই গ্রামে পূজিত হয়ে আসছেন। গোটা গ্রামের বাসিন্দারা মহাসমারোহে পালন করে থাকেন এই পুজো। গোটা দিন জুড়ে চলে পুজোর আনন্দ অনুষ্ঠান। প্রত্যেকের একটাই প্রার্থনা, জমির ফসল ক্ষতি, বাড়িঘর ক্ষতি হওয়া থেকে মা যেন তাঁদের রক্ষা করেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version