মত্ত অবস্থায় স্ত্রীকে মারধর। তারপরেই খুনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে! ধরা পড়ার আশঙ্কায় মাথা ন্যাড়া করে আত্মগোপন করার চেষ্টা করে স্বামী। নিহত মহিলার নাম অঞ্জলি মণ্ডল। কিন্তু, শেষমেশ গারদের ওপারে যেতেই হল অভিযুক্ত স্বামীকে। ঘটনায় চাঞ্চল্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর এলাকায়।

কী জানা যাচ্ছে?

স্ত্রীকে খুন করে মাথা ন্যাড়া করে আত্মগোপন করেও হল না শেষরক্ষা। বারুইপুরে স্ত্রীকে খুন করার ঘটনায় গ্রেফতার অভিযুক্ত স্বামী। বচসা থেকেই খুন বলে প্রাথমিক তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছে পুলিশ। এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান বারুইপুরের এসডিপিও অতীশ বিশ্বাস। ধৃতকে আজই বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

পরিবারের নিত্য অশান্তি

উত্তর মনসাতলার বাসিন্দা রবীন মণ্ডলের সঙ্গে ২০ বছর আগে বিয়ে হয় ইন্দ্রপালারই বাসিন্দা অঞ্জলি মণ্ডলের। প্রেম করেই বিয়ে হয় দু’জনের। কিন্তু যৌবন বয়সের ভালোবাসা টেকেনি বেশিদিন। দম্পতির দুই পুত্র সন্তান আছে। একজন ১৯ বছরের, আরেকজনের ১৪ বছর বয়স। তাঁরা দুজনেই মামার বাড়িতেই থাকে। বাবা ছেলেদের উপরেও মারধর করত মত্ত অবস্থায় বলে অভিযোগ। সে কারণেই নিজের বাড়ি ছেড়ে মামার বাড়িতে থাকত দুই কিশোর।

স্থানীয় সূত্রে কী জানা যাচ্ছে?

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রবীন মণ্ডল মদ বিক্রি করত বেআইনিভাবে। তার নামে একাধিক কেসও আছে। বহুবার জেলও খাটে রবীন। স্থানীয় একটি গণ্ডগোলের ঘটনায় সেপ্টেম্বর মাসে ২০ তারিখ গ্রেফতার হয়। পুজোর আগে ৫ই অক্টোবর জামিন পায় রবীন। বিজয়া দশমীর দিন বুধবার শেষ অঞ্জলি দেবীকে দেখা গিয়েছিল। ওইদিনই ঝামেলা হয় দু’জনের। তারপর থেকে আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করে স্ত্রীকে গোয়াল ঘরে পুঁতে দেয় অভিযুক্ত বলে পুলিশের ধারণা।

Birbhum News : সিউড়িতে নৃশংস খুনের কিনারা, আসানসোল থেকে গ্রেফতার ‘স্টোনম্যান’
অভিযান পুলিশের

বারুইপুর ও মগরাহাট থানার পুলিশ যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়ে মগরাহাটের পশ্চিম বিলারিয়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে অভিযুক্ত রবীনকে গ্রেফতার করে। মাথা ন্যাড়া করে আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে ছিল সে। এসডিপিও বারুইপুর অতীশ বিশ্বাস জানান, বেশ কিছুদিন ধরে অভিযুক্ত রবীন নিখোঁজ ছিল। স্ত্রীকেও পাওয়া যাচ্ছিল না স্থানীয় বাসিন্দারা সন্দেহ করে পুলিশকে জানায়। আমরা তল্লাশি চালিয়ে বন্ধ ঘর থেকে একটি মহিলার দেহ পাই। এরপরেই অভিযুক্তের খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি। এরপরেই তাকে ধরতে সক্ষম হয় পুলিশের বিশেষ টিম।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version