Hooghly News : মগরায় প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানের আত্মহত্যায় ৩ TMC কর্মী গ্রেফতার, অভিযোগ অস্বীকার মূল অভিযুক্তের – hooghly mogra police station arrested 3 tmc workers in former panchayat member suicide case


হুগলির মগরায় তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ৩ তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম তাপস অধিকারী, প্রবীর অধিকারী ও বিশ্বজিৎ অধিকারী। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তাপস অধিকারী। চতুর্থ অভিযুক্ত বুদ্ধদেব বাগ এখনও পলাতক। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।

পাড়ার মণ্ডপে গণ্ডগোল
ঘটনার সূত্রপাত দুর্গাপুজোর নবমীর রাতে। ওইদিন পাড়ার পুজো মণ্ডপে গিয়েছিলেন অভিজিৎ অধিকারী। সেখানে বসে ধূমপান করছিলেন অভিজিৎ। সেই সময় কোনও একটি বিষয়ে নিয়ে তাপস অধিকারী-সহ আরও তিনজনের সঙ্গে তাঁর বচসা বাঁধে অভিজিতের। অভিযোগ, তার জেরেই অভিজিৎকে ওই চারজন ক্লাব সদস্য মারধর করেন। যে ৪ জন মারধর করেছে তাঁরাও তৃণমূলের সদস্য বলে জানা যাচ্ছে।

ঘটনার পর মানসিক অবসাদ গ্রাস করে
সেই মারমারির পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে পড়েন অভিজিৎ। রীতিমতো মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। এরপর রবিবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ওই মারধরের অপমান সহ্য করতে না পেরেই আত্মঘাতী হয়ছেন অভিজিৎ। একটি সুইসাইড নোটও লিখে রেখে গিয়েছেন তিনি। সেই সুইসাইড নোটেও তাঁকে মারধর ও অপমানের কথা উল্লেখ করে গিয়েছেন অভিজিৎ।

থানায় অভিযোগ দায়ের

ঘটনায় তাপস অধিকারী-সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এদিকে ইমামবাড়া হাসপাতালে দেহ ময়না তদন্তের পর রবিবার সন্ধায় এাকায় দেহ রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন মৃতের পরিজন ও এলাকাবাসীরা। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মগড়া থানার পুলিশ রবিবার রাতেই অভিযুক্ত তাপস, প্রবীর ও বিশ্বজিৎকে গ্রেফতার করে। সোমবার ধৃত তিন জনকে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয়। যদিও অপর অভিযুক্ত বুদ্ধদেব বাগ এখনও পলাতক।

অভিযোগ অস্বীকার ধৃতের
এদিকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাপস অধিকারী। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, ‘আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। এর সঙ্গে আমি কোনওরকমভাবেই যুক্ত নই। এটা খুবই দুঃখজনক, আমি তাঁর (অভিজিৎ অধিকারী) পরিবারকে সমবেদনা জানাই। কিন্তু আমাকে চক্রান্ত করে যাঁরা ফাঁসিয়ে দিয়েছে, সেই ষড়যন্ত্রকারীরা অচিরেই তাদের ভুল বুঝতে পারবে। আমি কোনও অন্যায় করিনি। আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকি। মানুষের পাশে আছি, পাশে থাকবো।’ প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিনের তৃণমূলের কর্মী ছিলে অভিজিৎ। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মগরা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যও ছিলেন তিনি। তাঁর এইভাবে মৃত্যুতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকাজুড়ে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *