মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুজো খুব শান্তিতে, সকলের সহযোগিতায় সুন্দরভাবে অতিবাহিত হয়েছে। এবার পুজো যে উচ্চতায় উঠেছে, আগামীদিনে আমরা আরও ভালোভাবে করব। ব্রিটিশ কাউন্সিল একটা রিসার্চ করেছে। আগেরবারে বলেছিল ৩৮ হাজার কোটি টাকা বিজনেস করেছে, এবার বলেছে অফিসিয়ালি ৭২ হাজার কোটি টাকা। তবে আমার ধারণা ৮০-৮৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। টাকাটা মানুষের হাতেই যাবে। প্রায় ৩ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। গরীব মানুষগুলো, যাঁরা লোকশিল্পী, তাঁদের কাছে বড় পাওনা। বাংলাকে নানাভাবে তাঁরা তুলে ধরেছেন।’
পুজো ও কার্নিভ্যালের প্রশংসায় মমতা
এদিন শহর কলকাতা থেকে জেলা, সব জায়গার পুজোরই ভূয়ষী প্রশংসা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুজোর আয়োজনে কমিটিগুলি একে অপরকে কার্যত টেক্কা দিয়েছে বলেই জানান মমতা। তিনি বলেন, ‘কোনওরকম কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি, মা রক্ষা করেছেন। হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খৃষ্টান সকলে মিলে আমরা পুজো করেছি।’ একইসঙ্গে পুজো কার্নিভ্যালেরও প্রশংসা করতে শোনা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, ‘শুধু কলকাতায় নয়, কলকাতায় তো ১০০টা পুজো প্যান্ডেল দারুণভাবে শো করেছে। জেলায় জেলায়ও কার্নিভ্যাল হয়েছে। জেলায় মহকুমা মিলিয়ে যে পরিমাণ কার্নিভ্যাল হয়েছে, তার সংখ্যা যোগ করা হলে, পৃথিবীর যে কোনও কার্নিভ্যালকে ছাড়িয়ে যাবে।’
প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক বছর ধরেই শহর কলকাতায় পুজোর পর রাজ্য সরকারের তরফে কার্নিভ্যালের আয়োজন করা হয়। কলকাতার তাবড় পুজো কমিটিগুলি অংশ নেয় সেই কার্নিভ্যালে। এবারেও কমবেশি ১০০ পুজো কমিটি অংশ নেয় রেডরোডের ওই শোভাযাত্রায়। পাশাপাশি গতবছর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও শুরু হয়েছে পুজো কার্নিভ্যাল। এবারেও তার কোনওরকম ব্যতিক্রম হয়নি। বিশ্ববাংলা সারদ সম্মানে যে সমস্ত পুজো সেরার তকমা পেয়েছে, তার বেশিরভাগই অংশ নেয় কার্নিভ্যালে। গত ২৬ তারিখ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একযোগে আয়োজিত হয় এবারে কার্নিভ্যাল। তারপরের দিন কলকাতার রেডরোডে ছিল দুর্গাপুজোর শোভাযাত্রা। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।