নাম না করে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রশংসায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে, রাজ্যের মন্ত্রীদের গ্রেফতারি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা রাজনৈতিক প্রশ্ন, আমার দল এই বিষয়ে উত্তর দেবে। অবশ্যই তাঁরা সরকারের মন্ত্রী। আপনারা কি জানেন, কী ভাবে তিনি (জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক) ডিজিটাইজ রেশন কার্ডের জন্য কাজ করেছেন? কী ভাবে ১ কোটি ভুয়ো রেশন কার্ড বাতিল করেছেন? তারা কৃষকদের থেকে চাল কেনার চেষ্টা করেছেন। মনে রাখবেন, এটা একটা সবুজ বিপ্লব।’ একইসঙ্গে নাম না করে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সুস্বাস্থ্যও কামনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত, এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে বাম আমলের ভুয়ো রেশন কার্ডের অভিযোগ তুলে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, যখন তাঁরা ক্ষমতায় এসেছিলেন, তখন রাজ্যে ১ কোটি ভুয়ো রেশন কার্ড ছিল। তাঁরা ক্ষমতার এসে, সেই সমস্ত রেশন কার্ড বাতিল করেছেন বলে জানান মমতা। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে সমস্ত ভুয়ো রেশন কার্ড ছিল, সেই রেশন তোলা হল, সেটা কোথায় যেত, সেই প্রশ্নও তুলতে শোনা যায় রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, যখনই দালালরাজ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে, কিছু রেশন দোকান বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে, তখনই বিষয়টা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালতের মামলা চলার কারণে গোটা বিষয়টিতে দেরি হয়েছে।

এদিন কৃষকদের থেকে চাল কেনার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার কথায়, ‘আমরা ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার থেকে চাল কিনতে বাধ্য হতাম। কিন্তু একদিন হঠাৎ করে বন্ধ করে দিল তারা। যখন তারা বন্ধ করে দিল, তখন রেশনিং ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে চলে গিয়েছিল। তখন সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, ভাঙা চাল খাওয়ার চেয়ে আমরা সরাসরি চাষীর ঘরের চাল কিনব। গত ৪-৫ বছর ধরে আমার চাষীর থেকে সরাসরি চাল কিনছি, বিনা পয়সায় রেশন দিচ্ছি। চাল কিনতে হচ্ছে ২৩-২৪-২৬ টাকায়।’

প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতিতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের হেফাজতের রয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। গত সপ্তাহে তাঁর বাড়িতে হানা দেন ইডি কর্তারা। সেই ঘটনায় ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির সমালোচনা করেছেন মমতা। আর এবার এই প্রশংসার মধ্যে দিয়ে মমতা জ্যোতিপ্রিয়র পাশে থাকার বার্তা দিলেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version