দুর্গাপুর ব্যারেজের বর্ধমান ফিডার ক্যানেলের লক গেট ভেঙে গিয়ে বিপত্তি। চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছেন সেচ দফতরের আধিকারিকরা। দীর্ঘদিন লকগেট মেরমত না হওয়ার কারণেই এই বিপত্তি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের।

জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর ব্যারেজের দামোদরের বর্ধমান সেচ খালের ৬টি লক গেটের মধ্যে ৫ নম্বর লগ গেট বুধবার রাতে হঠাৎ করে বেঁকে যায়। যেহেতু বর্তমানে ফিডার ক্যানেলে জল ছাড়া রয়েছে, তাই জলের গতিবেগ বেশি থাকার কারণে, গেটটি ভেঙে বেরিয়ে যেতে পারে। কারণ গেটের বেশিরভাগ অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। তাই পাশাপাশি অন্য দু’টি গেট খুলে আপাতত জল ছাড়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ দীর্ঘদিন মোরামতি না হওয়ার কারণে ব্যারেজের বেশিরভাগ লক গেট ভীষণই খারাপ অবস্থায় রয়েছ। এই বিষয়ে সুরজিৎ প্রামাণিক নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলছেন, ‘সকালে এসে দেখলাম গেটটা ভেঙে গিয়েছে, নীচটা বেঁকে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গেটগুলি মেরামত হয়নি, সেই কারণে গেটটি জলের চাপে বেঁকে ওপর দিকে উঠে গিয়েছে। এখন ডিভিসি কর্তৃপক্ষ এসেছে। তারা গেটগুলি পরীক্ষা করে দেখছে। যে গেটটা ভেঙে গিয়েছে, তার ওপর যাতে চাপ না আসে, তার জন্য পাশের দু’টি গেট খুলে জল পাস করানোর চেষ্টা হচ্ছে।’

এই জল মূলত বর্ধমানে যায়। সেখানে চাষের কাজের জন্য প্রতিবছরই এই জল ছাড়া হয়। সুরজিৎ মনে করছেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণেই এমনটা ঘটেছে। এক্ষেত্রে ডিভিসি কর্তৃপক্ষের অবশ্যই গেটগুলির দিকে নজর রাখা দরকার।

এদিকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন সেচ দফতরের আধিকারিকরা। গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। এই প্রসঙ্গে সেচ দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়র চিত্তরঞ্জন সরেন জানান, ৫ নম্বর গেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গেটটা বদলানো হবে, খুব তাড়াতাড়িই বদলে ফেলার কাজ শুরু হবে। তবে এর জন্য দুর্গাপুরবাসীকে বিশেষ কোনও সমস্যায় পড়তে হবে না বলেই জানালেন সেচ দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়র। তিনি আরও জানান, পার্শ্ববর্তী গেটগুলি খুলে দেওয়া হচ্ছে। জলের চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। কারণ জলের চাপ আরও বাড়লে গেটটি পুরোপুরি বেঁকে যেতে পারে বলে জানান তিনি।

ইঞ্জিনিয়র আরও জানান, গেটটি প্রায় ৫ থেকে ৬ ডিগ্রি বেঁকে গিয়েছে। গেটটি আগে থেকেই কিছুটা ড্যামেজ ছিল। তবে নতুন গেট এখনই হবে না বলেও জানিয়ে দেন তিনি। সেক্ষেত্রে নতুন টেন্ডার হওয়ার পরেই নয়া গেট বসবে বলে জানান ইঞ্জিনিয়ার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version