সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেই যাত্রী বিক্ষোভে ব্যাহত ট্রেন চলাচল। ঘটনাস্থল দক্ষিণ-পূর্ব রেলের টিকিয়াপাড়া স্টেশন। সূত্রের খবর,সোমবার দক্ষিণ-পূর্ব রেলের টিকিয়াপাড়া স্টেশনের সামনে যাত্রীদের একাংশ বিক্ষোভ শুরু করে। যার ফলে ওই লাইনে ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে বলে সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে। অভিযোগ, টিকিয়াপাড়ার কাছে দীর্ঘক্ষণ লোকাল ট্রেনকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। যার প্রতিবাদে রেল লাইনে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন যাত্রীরা।

যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে টিকিয়াপাড়া স্টেশনে কাছে আমতা লোকালকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। আর সেই সময় কারশেড থেকে ছাড়া হয় অন্যান্য ট্রেন। যার জেরে গন্তব্যে পৌঁছতে রোজই দেরি হয়ে যায় তাঁদের। এই পরিস্থিতে রোজই হয়রানির শিকার হন যাত্রীরা। অভিযোগ, এদিনও সেই একই ঘটনা ঘটলে, লাইনে নেমে পড়েন ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। তারপরেই শুরু হয় বিক্ষোভ।

রেহান খান নামে এক যাত্রী বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব রেলে প্রতিদিনের সমস্যা। ১১টা থেকে ডিউটি। অফিস থেকে বলেছে ১১টা ৩০ পর্যন্ত ছাড় রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন অফিস ঢুকতে ১২টা-সাড়ে ১২টা বেজে যাচ্ছে। এর পরে মনে হয় চাকরি থাকবে না। রেল কিছু করছে না। বাড়ি ফেরার সময়েও একই ঘটনা।’

পেশায় সিভিক ভল্যান্টিয়ার বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য নামে এক যাত্রী বলেন, ‘আজ বলে নয়, প্রায়ই একই সমস্যা। বাড়ি থেকে বেরিয়েছি পৌনে ৯টা। ১১টার মধ্যে ঢুকে গেলেও হয়। সাড়ে১১টার সময়েও টিকিয়াপাড়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পৌনে ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ট্রেন দাড়িয়ে রয়েছে। একই অবস্থা।’

অন্যদিকে এই বিষয়ে ট্রেনের গার্ড ওয়াই পি চৌধুরী বলেন, ‘১০টা ৪৬ থেকে ট্রেন দাঁড়িয়ে। সামনে সিগন্যাল নেই, সিগন্যাল না দিলে গাড়ি যাবে না। আমি যা খবর পেয়েছি, সামনে আরও কিছু গাড়ি দাড়িয়ে।’

প্রসঙ্গত, লোকাল ট্রেনের বিভিন্ন শাখায় ট্রেন বিলম্বে চলার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। পূর্ব রেল বা দক্ষিণ পূর্ব রেল, প্রায় প্রতিটি শাখাতেই নিয়মিতভাবে ট্রেন দেরিতে চলার অভিযোগ তোলেন যাত্রীরা। গত অগাস্ট মাসেও দক্ষিণ-পূর্ব শাখার রামরাজাতলা স্টেশনে রেললাইনে নেমে বিক্ষোভ দেখান রেল যাত্রীরা। সেই সময়ও লোকাল ট্রেন দেরিতে চলাচলের অভিযোগ তোলেন যাত্রীরা।

সেই সময় বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, কখনও আধ ঘণ্টা, কখনও এক ঘণ্টা দেরিতে চলছে ট্রেন। এমনকী সেই বিষয়ে অভিযোগ জানালেও রেল কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। সেই সময় যাত্রীদের অভিযোগ ছিল, মূলত আমতা লোকালই বেশি দেরি করে। ফলে মানুষের নিজেদের কাজে বা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে অনেক দেরি হয়ে যায়। প্রায় প্রত্যেকদিন অফিসে ঢুকতে দেরি হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version