রঞ্জন মাইতি | এই সময় ডিজিটাল

গত কয়েক মাস আগে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার খাদিকুলে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় বেশ কয়েকজনের। পরবর্তীতে জেলায়’ গ্রিন ক্র্যাকার ক্লাস্টার’ তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জন্য ইতিমধ্যেই মহিষাদলে গ্রিন বাজির হাব তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কিন্তু তা এখনও সম্পন্ন না হওয়ায় কলীপুজোর আগে ব্যাপক সমস্যায় বাজি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত একটা বড় অংশের মানুষ। অন্যদিকে জেলায় নিষিদ্ধ শব্দবাজি তৈরি পুরোপুরি বন্ধ বলে দাবি পুলিশ-প্রশাসনের। কিন্তু তারপরেও গত দুর্গাপুজো থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় কয়েকশো কুইন্টাল নিষিদ্ধ বাজি বাজেয়াপ্ত হয়েছে গোটা জেলাজুড়ে। সেক্ষেত্রে কোথা থেকে এত নিষিদ্ধ বাজি আসছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

গ্রিন বাজি হাব তৈরির প্রস্তুতি চলছে
খাদিকুলের ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী জেলায় গ্রিন বাজির ক্লাস্টার তৈরির কথা ঘোষণা করলেও এখনও পর্যন্ত তা তৈরি হয়নি। এই বিষয়ে জেলাশাসক তনবির আফজল বলেন, ‘মহিষাদলের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, কাজ চলছে। অস্থায়ী বেশকিছু লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এটা বিক্রি করার লাইসেন্স। বাজির তৈরি করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে মহিষাদলের প্রস্তাব পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও কিছু কাগজ চাওয়া হয়েছিল, পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমএসএমই দফতর অনুমোদন দিলে কাজ শুরু হবে। বিক্রির ক্ষেত্রে ১০০-র বেশি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।’

বিধায়ক যা বললেন…
এলাকার বিধায়ক তরুণ মাইতি আবার বলেন, ‘গ্রিন বাজি তৈরি ও বিক্রিতে কোনও বাধা নেই। কিন্তু শব্দ বাজি বা ক্ষতিকরক বাজি হলে নিশ্চিতভাবে পুলিশ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেবে। আমার বিধানসভা এলাকায় যে সমস্ত জায়গায় বাজি তৈরি হত, এখন বন্ধ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথা মেনে গ্রিন বাজি হাব তৈরি জন্য ডিএম অফিস থেকে জায়গা নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন বাজি উৎপাদন বন্ধ। যাঁরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা রুটিরুটির বিষয়ে কঠিন অবস্থায় রয়েছনে। তা সত্ত্বেও, যেহেতু এতবড় একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে, পুলিশকে বলব আরও সতর্ক হওয়ার জন্য। যদি কোথাও শব্দবাজি বিক্রি হয় সেগুলিকে আটক করা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলব। এত ধরপাকড় হচ্ছে মানেই পুলিশ কাজ করছে, প্রশাসন সতর্ক আছে, এটা তার প্রমাণ।’

সমস্যার কথা জানাচ্ছেন বাজি কারিগররা
এদিকে গ্রিন বাজির হাব তৈরি না হওয়ায় কার্যত বেকার হয়ে রয়েছেন বলে জানাচ্ছেন বাজি কারিগরদের একটা বড় অংশ। বাজি কারিগর সন্দীপ মাজি বলেন, ‘বেকারভাবে ঘুরছি। সরকারই জানে কী করছে। আমারা বেকারত্বের জালায় ঘুরছি।’ তিনি আরও জানান, প্রশাসন বাজি বিক্রির ক্ষেত্রে যে ১০০টির মতো লাইসেন্স দিয়েছে, তা মাত্র একমাসের জন্য। আর সেই লাইসেন্স তাঁরা পাননি বলেও দাবি সন্দীপের। আবার বিপুল দাস নামে এক বাজি কারিগরের দাবি, বাজির লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। পুলিশ-প্রশাসনের কর্তারা এসে ঘুরে যাওয়ার পরেও লাইসেন্স পাওয়া যায়নি।

Bazi Bazar 2023 : শুরু হয়ে গেল বাজি বাজার, মিলবে শুধুই গ্রিন ক্র্যাকার্স! কতক্ষণ খোলা?
পুলিশ সুপার যা জানাচ্ছেন…
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এতই যদি কড়াকড়ি থাকে, তাহলে কোথা থেকে আসছে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ বাজি? এই বিষয়ে পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘জেলায় বাজি তৈরির কোনও খবর নেই। যেগুলি উদ্ধার করা হয়েছে তা বাইরে থেকে এনে লুকিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল। সেগুলি আমরা আটক করেছি। আগামীদিনেও আমাদের একইভাবে কড়া নজদারি থাকবে, যাতে কোনওভাবে নিষিদ্ধ শব্দবাজি তৈরি বা বিক্রি না হয়।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version