অভাবের তাড়নায় রাজস্থানে সেন্টারিংয়ের কাজ করতে গিয়েছিলেন। উপর থেকে পাটা পড়ে গুরুতর জখম হয়েছিল হাত। পচন ধরায় ডান হাতের কবজি থেকে বাকি অংশ বাদ দিতে হয়। হাত বাদ যাওয়ার পরও থেমে থাকেননি পোলবার রাজহাটের তারাবিহারী গ্রামের মহেশ মাহাতো। এক হাতেই সাবলীল তিনি। কেউ কেউ তাঁকে এক হাতের বিশ্বকর্মা নামও দিয়েছেন।

বছর আটেক আগে দুর্ঘটনায় হাত বাদ যাওয়ার পর আর সেন্টারিংয়ের কাজ করতে পারেন না মহেশ। বিকল্প পেশার খোঁজে স্থানীয় একজনের থেকে শিখেছিলের থার্মোকল দিয়ে সজ্জার কাজ। তারপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় মণ্ডপসজ্জার কাজ শুরু করেন হুগলির পাণ্ডুয়ার বাসিন্দা এই ব্যক্তি। নিখুঁতে হাতের কাজের কারণে দিল্লি-মুম্বইতেও ডাক পড়ে মহেশের।

কালীপুজো আর মেরে কেটে তিন-চারদিন বাকি। পাণ্ডুয়া হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী সমিতির পুজোর মণ্ডপের কাজ চলছে জোর কদমে। পিরামিডের উপর এবার তাদের থিম। এবার সেই কাজ করেছেন মহেশ। এক হাতেই তাঁকে পাণ্ডুয়ার কালীপুজোর মণ্ডপে নিপুণভাবে কাজ করতে দেখা গেল। থার্মোকল দিয়ে সুন্দর সুন্দর মডেল তৈরি করছেন মহেশ। তিনি যেন অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা। ‘এক হাতের বিশ্বকর্মা’-কে দেখেই জীবন সংগ্রামে হেরে না যাওয়ার সাহস পাচ্ছে অনেকে।

Barasat Kali Puja : ১০০ ফুট উচ্চতার মণ্ডপে ইলোরার কৈলাসা মন্দির, বারাসতের কালীপুজোয় বিশেষ চমক
কী ভাবে এক হাতে এই নিপুণ শিল্পকলা ফুটিয়ে তোলা সম্ভব? মহেশ মাহাতো বলেন, ‘সেন্টারিয়ের কাজ করতে গিয়ে আহত হই। সেই জায়গায় ক্যানসার হয়ে যায়। পরে চিকিৎসকরা হাত কেটে বাদ দেয়। একটা হাত বাদ চলে যাওয়ার পর প্রথমে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। কাজ করতে অসুবিধা হত। তবে এখন আর অসুবিধা হয় না। টালির বাড়িতে স্ত্রী পুত্র ও কন্যাকে নিয়ে থাকি। যা উপার্জন করি তা দিয়েই কোনওরকমে চলে যায় আমাদের সংসার। কিছুটা সুস্থ হবার পরে সবজি বিক্রি করতাম। পরে আমারই এক সহকর্মীর কাছ থেকে থার্মোকল কাটার কাজ শিখি। নয় বছর ধরে এখন এই কাজই করি। রাজস্থান গুজরাটে গিয়েও কাজ করেছি এখন বাংলাতে কাজ করছি। পাণ্ডয়ার পুজো মণ্ডপ তৈরি কাজও আমি করছি।’

অন্যদিকে পুজো কমিটির সদস্য শিশির দেবনাথ বলেন, প্রতিবছরের মতো এ বছরও আমরা কালীপুজোর আয়োজন করেছি। মিশরের পিরামিডের আদলে থিম করা হয়েছে। সেখানে বেশ কিছু থার্মোকলের কাজ রয়েছে। সেই কাজ করছে মহেশ। এক হাত দিয়েই থার্মোকল কেটে মণ্ডপে বিভিন্ন কারুকার্যের কাজ করছেন তিনি। মহেশের কাজ করার ধরন দেখে আমরা সত্যি অবাক হয়েছি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version