কোচবিহার বানেশ্বরের ঐতিহ্যবাহী কচ্ছপের মৃত্যু ও চুরি হয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলে আজ বৃহস্পতিবার ৬ ঘণ্টা বানেশ্বর বনধের ডাক দিলেন মোহন রক্ষা কমিটি, স্থানীয় মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ তুলে এদিন বনধের ডাক দেয় মোহন রক্ষা কমিটি। সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ১২ পর্যন্ত বানেশ্বর এলাকায় বন্ধ রাখা হয় সমস্ত দোকানপাট স্কুল কলেজ।

রাজ্য সড়ক অবরোধ
বনধের পাশাপাশি বানেশ্বর বড়তলা এলাকায় কোচবিহার আলিপুরদুয়ার রাজ্য সড়কও অবরোধ করা হয় তাদের পক্ষ থেকে। যার ফলে কোচবিহার- আলিপুরদুয়ার রাজ্য সড়কের উপর যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল থেকেই বানেশ্বরে সমস্ত দোকানপাট বন্ধ থাকে। বনধকে সমর্থন জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বনধকে সফল করতে সকাল থেকে রাস্তায় নামেন মোহন রক্ষা কমিটি সদস্য থেকে শুরু করে এলাকার সমস্ত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ।

ঠিক কী অভিযোগ?
কোচবিহারের বানেশ্বরের ঐতিহ্যবাহী শিব মন্দিরের শিব দিঘিতে রয়েছে কচ্ছপ। পাশাপাশি এলাকার সমস্ত পুকুর খাল বিলেও কচ্ছপ পাওয়া যায় । কচ্ছপ ঐতিহ্যবাহী। বানেশ্বর শিব মন্দির ও কচ্ছপকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক পর্যটকও আসেন। যার উপর নির্ভর করে থাকেন এলাকার ব্যবসায়ীরা। বানেশ্বর শিব দিঘির কচ্ছপের দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছে কোচবিহার জেলা প্রশাসনের দেবত্ব ট্রাস্ট বোর্ড। অভিযোগ, দিঘির কচ্ছপের পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন পুকুর থেকে কচ্ছপ চুরি হয়ে যাচ্ছে।

দুর্ঘটনাতেও মৃত্যু হচ্ছে কচ্ছপের
অন্যদিকে খাবার না পেয়ে কচ্ছপগুলো রাস্তায় চলে আসায় প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনাতেও মৃত্যু হচ্ছে সেগুলির। যে কচ্ছপের উপর নির্ভর এলাকার পর্যটন শিল্প, সেই কচ্ছপ এখন বানেশ্বর থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। তাই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এদিন বনধের ডাক দেওয়া হয় বলে জানা যাচ্ছে। এরপরেও সুরাহা না হলে কার্যত আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিযারি দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

কোথায় এই মন্দির?
প্রসঙ্গত, এই বানেশ্বর শিব মন্দির কোচবিহার থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে আলিপুরদুয়ার থেকে বামনহাট পর্যন্ত রেললাইনের মধ্যবর্তী বানেশ্বর রেলস্টেশনের কাছে অবস্থিত। নিউ বানেশ্বর রেল স্টেশনের থেকে এই মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ১.৬ কিলোমিটার। মন্দিরের প্রধান দালান থেকে ১০ ফুট নীচে, মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে ‘শিব লিঙ্গ’ এবং একটি ‘গৌরিপাট’।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version