ক্রোড়পতি থেকে ডিম পাড়া মুরগি। ড্রোন থেকে হেলিকপ্টার। সবকটি বাজির নাম। হ্যাঁ! নতুন ধরণের বাজি নিয়ে আপনাকে চমকে দিতে প্রস্তুত চম্পাহাটি। চলতি বছরে মনমাতানো রকমারি বাজির সম্ভার নিয়ে হাজির বারুইপুরের চম্পাহাটি বাজি বাজার। হাতে গোনা দুইদিন বাকি। যদিও, কালীপুজোর আগেও চম্পাহাটির বাজি বাজারে ভিড় তুলনামূলক কম বলেই জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

কী জানা যাচ্ছে?

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত বারুইপুর থানার চম্পাহাটির হাড়াল আতশবাজির জন্য বিখ্যাত। সারা বছরই এই এলাকায় বাজি তৈরি হয়। মূলত আলোর বাজি তৈরিতে এই এলাকার নাম রয়েছে যথেষ্ট। প্রতিবছর দুর্গাপুজো মিটলেই এখানে বসে বাজির মেলা। কালিপুজো বা দীপাবলির কয়েকদিন আগে এই বাজি বাজারে গা গলানো যায় না এত মানুষের ভিড় হয় সেখানে। কিন্তু এবার চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। হাতে গোনা দু তিনটে দিন বাকি রয়েছে দীপাবলির, কিন্তু এখনও বাজির বাজার প্রায় ফাঁকা। দোকানে খরিদ্দার নেই সেভাবে। দু’একজন খরিদ্দার আসলেও পুলিশি হয়রানির ভয়ে সেভাবে বাজি কিনতে চাইছেন না। ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

বাজি তৈরিতে বাধা

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ফলে কার্যত সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল বাজি তৈরির ক্ষেত্রে। দীর্ঘ ১১ মাস বাজি তৈরি বন্ধ ছিল এই হারাল গ্রামেও। অবশেষে সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত বাজি কারখানাগুলি বাজি তৈরির অনুমতি পায় মাত্র একমাস আগে। হাতে সময় কম থাকলেও দীপাবলির আগে সকলেই চেষ্টা চালিয়ে বাজি তৈরির কাজ শুরু করেন দ্রুত গতিতে। অন্যান্য বছরের মত যোগান না থাকলেও দীপাবলির আগে বাজি প্রেমীদের হাতে নানা রঙের আতশবাজি তুলে দিতে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন এই বাজি গ্রামের মানুষরা।

কী রকম বাজি এবারে?

প্রতি বছরই নিত্য নতুন কায়দার বাজি তৈরি হয় এই বাজারে। এবারে ড্রোন, হেলিকপ্টার বাজির চাহিদা অনেক বেশি রয়েছে। পাশাপাশি, ক্রোড়পতি নামে নতুন একটি বাজি তৈরি হয়েছে। সেলের মতো দেখতে এই বাজি আকাশে ফাটার পর ধোঁয়া তৈরি করবে, যেটি দেখতে হবে টাকার নোটের মতো। এছাড়াও, গ্র্যান্ড স্ল্যাম, জাম্পিং মঙ্কি, সিঙ্গিং ডল সহ একাধিক নতুন টাইপের বাজি রয়েছে এবারে।
যখন বাজারে ক্রেতা আসতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই পুলিশি ধরপাকড় বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকাংশে। সরকারি নির্দেশ মেনে আলোর বাজি কিম্বা ১২৫ ডেসিবেলের কম শব্দবাজি কিনলেও রাস্তায় পুলিশ সেই বাজি কেঁড়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন অনেকে। সেই কারণেই কলকাতা সহ আশপাশের এলাকার মানুষ যারা এখানে বাজি কিনতে আসতে তাঁরা আসতে চাইছেন না।

Barasat Kali Puja 2023: বারাসতের কালীপুজোয় কোথায় কোন মণ্ডপ! কোথায় পাবেন বাস, দেখে নিন গাইড ম্যাপে
বাজি ব্যবসায়ীরা কী বলছেন?

বাজি ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি নিয়ম মেনে বাজি কেনা বেচা হলেও পুলিশি হয়রানি বন্ধ হচ্ছে না। এই গ্রামে কয়েক লাখ মানুষ এই বাজি শিল্পের উপর নির্ভরশীল। সারা বছরের মধ্যে এই পুজোর মাসগুলির উপর নির্ভর করেই তাঁরা নানা ধরনের বাজি উৎপাদন করেন, সরকারি সমস্ত নির্দেশিকা মেনেই সকলে ব্যবসা করতে চান, কিন্তু প্রশাসনিক সহযোগিতা না পেলে অচিরে এই শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে, কর্মহীন হয়ে পড়বেন বহু মানুষ।
চম্পাহাটি হাড়াল বাজি ব্যবসায়ী সমিতির মুখপাত্র শঙ্কর মণ্ডল জানান, ৪০০ জনকে বাজি বিক্রির বৈধ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। তবে ৪ থেকে ৫ জন গ্রিন বাজি তৈরির ছাড়পত্র পেয়েছেন। ১২৫ ডেসিবেল পর্যন্ত বাজি ছাড় দেওয়া হলেও এই বছরে ব্যবসা অনেকটা মার খেয়েছে। ধার দেনা করে ব্যবসা করছেন অনেকে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version