বাদাম বিক্রি করে ভাগ্য খুলেছিল ভুবন বাদ্যকরের। কিন্তু, সেই ভাইরাল হওয়ার ভাগ্য সকলের হয় না। চাটনি বিক্রি করে কোনওমতে সংসার চালান মুরারই থানার পলশা গ্রামের নূর আলম শেখ। মাসে তিনি আয় করেন ১০০ থেকে ১৫০। সংসার স্বচ্ছল করার জন্য তিনি বিকল্প পন্থা খুঁজছিলেন। কেটেছিলেন লটারি। তাও মাত্র ৩০ টাকা দিয়ে। কিন্তু, উৎসবের মরশুমে যে সেই ৩০ টাকাই তাঁকে মালামাল করে দেবে তা বুঝতে পারেননি ওই আচার বিক্রেতা।

তিনি ১০ নভেম্বর মাত্র ৩০ টাকা খরচ করে লটারি কিনেছিলেন। আর তাতেই ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা। এক কোটি টাকা পান তিনি। গত ১০ নভেম্বর ৩০ টাকা দিয়ে ৫ সেম লটারি কেটেছিল আচার বিক্রেতা নূর। নিছকই আশায় বুক বেঁধেছিলেন- যদি এক দুই হাজার টাকা মেলে। সেই স্বপ্ন যে সত্যি সত্যি পূরণ হয়ে যাবে তা তিনি ভাবেননি। এক কোটি টাকার লটারি জেতেন তিনি। গ্রামে ঘুরে ঘুরে কুলের আচার বিক্রি করে বীরভূমের নূর। প্রথমে কোটি টাকার লটারি পাওয়ার খবর তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি।

এরপর লটারির ফলাফল জানার পর আনন্দ আত্মহারা হয়ে যান। কিন্তু, এই অর্থ কী ভাবে পাওয়া যাবে, তা ঠাহর করতে পারেননি নূর। গত ১৩ নভেম্বর তিনি মুরারই থানার দ্বারস্থ হন। ১৪ নভেম্বর লটারির টিকিট থেকে টাকা পাওয়ার জন্য কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। স্ত্রী এবং এক ছেলে-মেয়েকে নিয়ে সংসার নূরের। প্রতিদিন কাকভোরে কাজের জন্য বেরিয়ে যেতেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিলি করতেন আচার।

নূরের কথায়, অর্থের অভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পারেননি তাঁর ছেলে। এখন টোটো গ্যারাজে কাজ করে যাতে সংসারটা চলে। তবে মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি নূর। আচার বিক্রির টাকা জমিয়েই দেন মেয়ের পড়াশোনার খরচ। তবে তাঁর বিয়ে নিয়ে ছিলেন চিন্তায়। লটারিতে এক কোটি টাকা জয়ের পরে স্বাভাবিকভাবেই খুশি তিনি। আপাতত বাড়িটুকু সারিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যতের দিকে নজর দিতে চান তিনি। নূরের এই প্রাপ্তিতে খুশি তাঁর প্রতিবেশীরাও।

এদিকে মঙ্গলবারই থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন নূর। যতক্ষণ না পর্যন্ত ওই টিকিট ভাঙানো হবে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে নূরকে, জানা দিয়েছে এমনটাই। এদিকে নূরের লটারি জয়ের খবরে খুশি ওই লটারি বিক্রেতাও।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version