প্রদীপ চক্রবর্তী, চন্দননগর
রং বেরংয়ের বাহারি আলো, নজরকাড়া মণ্ডপ ও সাবেকি প্রতিমার আকর্ষণে পঞ্চমীতেই সেজে উঠেছে গঙ্গার পশ্চিম তীরের শহর চন্দননগর। অধিকাংশ বারোয়ারি মণ্ডপে প্রতিমা ও আলোকসজ্জার বৃত্ত সম্পূর্ণ হতেই শনিবার থেকেই পুজো প্রাঙ্গণে মানুষের আনাগোনা শুরু হয়। দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা ও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড় বেড়েছে। দুর্যোগের মেঘ কেটে যাওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন উদ্যোক্তারা। ষষ্ঠীর দিনটা রবিবার পড়ায় সে দিন থেকেই চন্দননগর জনজোয়ারে ভাসবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটি। কমিটির সম্পাদক শুভজিৎ সাউ বলেন, ‘বিশ্বকাপের ফাইনাল রয়েছে রবিবার। তাই ছুটির দিন হলেও মানুষ খেলা দেখবে। তবে এ দিন রাতেই মানুষের ঢল নামবে পুজো মণ্ডপে।’

বোড় পঞ্চাননতলা সর্বজনীনের সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষের থিম ‘আস্তিক’। পিতলের প্রদীপ, বেলপাতা, পিলসুজ, ধূপদানি, হাতপাখা দিয়ে মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। পুজোর উদ্যোক্তা দেবসদয় কুণ্ডু বলেন, ‘ঈশ্বরের আরাধনায় ব্যবহৃত সামগ্রী ও পুজোর উপকরণ দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে।’ ৫১ বছরে সাবিনাড়া জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির ভাবনা ‘কখনও তন্বী, কখনও অগ্নি’।

পুজো কমিটির সভাপতি প্রশান্ত সাহা বলেন, ‘কন্যা ভ্রুণ যেন হত্যা করা না হয় সেই ভাবনা থেকেই আমাদের এ বারের পুজো।’ ভদ্রেশ্বরের বাবুরবাজার সর্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য নীলমণি ভড় জানান, ‘পুজোর সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে বছরে আমাদের থিম রাজস্থানের লোকনৃত্য ঘুমর।’ রাজস্থানি প্রাসাদের আদলে তৈরি মণ্ডপের সামনে রয়েছে লোকশিল্পীদের মাটির মডেল।

অন্যদিকে, দুর্গাপুজোর আদলেই স্পর্শ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবীণদের চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর মণ্ডপ ঘুরিয়ে দেখায় পুলিশ কমিশনারেট। এ দিন প্রায় ৫৪ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে গাড়ি করে চন্দননগরের বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন করানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। রোজকার রুটিন জীবনের বাইরে বেরিয়ে পুলিশের এই উদ্যোগে সামিল হয়ে খুশি প্রবীণরা। মধ্যাহ্নভোজেরও ব্যবস্থাও ছিল তাঁদের জন্য।

চুঁচুড়া থেকে এসেছিলেন সন্ধ্যা পাল। তিনি বলেন, ‘গতবারের মতো এবারেও পুলিশের উদ্যোগে আমরা চন্দননগরে ঠাকুর দেখেছি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবনার তুলনা নেই।’ মণিমালা দত্ত নামে এক প্রৌঢ়া বলেন, ‘আমাদের বাড়ি থেকে গাড়িতে করে মণ্ডপে নিয়ে আসা, ধরে ধরে ঠাকুর দেখানোর কাজে পুলিশ যে ভাবে যত্ন করেছে সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’ পুলিশ কর্মী প্রশান্ত দাস বলেন, ‘কমিশনার অমিত পি জাভালগির উদ্যোগে স্পর্শ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবীণ নাগরিকদের ঠাকুর দেখানো ও খাওয়ানোর পর বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version