প্রায় সব উৎসব শেষ। ফের এক বছরের অপেক্ষা। আবার আলোর সাজে সেজে উঠবে কলকাতা। দুর্গাপুজো-কালীপুজো মিটে গিয়েছে। কিন্তু শহরের বিভিন্ন অংশে রাস্তার উপর বা মাঠে পরে রয়েছে আধখোলা প্যান্ডেল। পুজো মণ্ডপের কারণে একদিকে যেমন যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে, তেমনই অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। পুজোর কারণে রাজপথে লাগানো বিভিন্ন ফ্লেক্স নিয়েও তৈরি হয়েছে সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে এবার উদ্যোগী হল কলকাতা পুরসভা। বিভিন্ন রাস্তা ও পার্ক থেকে প্যান্ডেল এবং ফ্লেক্স সরানোর জন্য সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা পুরসভা

প্যান্ডেল সরানোর সময়সীমা

২১ নভেম্বরের মধ্যে কলকাতার সব রাস্তা ও পার্ক থেকে প্যান্ডেল ও বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী ফ্লেক্স সরিয়ে ফেলতে হবে পুজো উদ্যোক্তাদের। সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা পুরসভা। বেশ কিছু পুজো কমিটির ভূমিকায় অসন্তুষ্ট কলকাতা পুরসভা। অসন্তোষ গোপন করেননি কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। শনিবার তিনি বলেন, ‘২১ নভেম্বের প্যান্ডেল ও ফ্লেক সরিয়ে না ফেলা হলে পুরসভার তরফে তা খুলে নেওয়া হবে। প্যান্ডেলের বাঁশ ও অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হবে। এবং ডেকরেটারদের তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে না।’

পুজো কমিটি ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে ‘না খুশ’ মেয়র। ফিরহাদ জানিয়েছেন, উদ্যোক্তাদের গাফিলতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই পার্ক ব্যবহার করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আর দু’দিন অপেক্ষা করব। তারপরই কলকাতা পুরসভার লোকরা প্যান্ডেল খুলে নেওয়ার কাজ শুরু করে দেবে। এবং পুজো উদ্যোক্তাদের তার জন্য টাকা দিতে হবে।’

Cyclone Midhili Update: ধেয়ে আসছে সাইক্লোন মিধিলি, দুরুদুরু বুকে জগদ্ধাত্রীর কাছে প্রার্থনায় চন্দননগর
মণ্ডপ না খোলায় বন্ধ শহরের একাধিক পার্ক

কলকাতার অধিকাংশ রাস্তা থেকে প্যান্ডেল খুলে নেওয়া হলেও অনেক পার্কেই এখনও প্যান্ডেলের কাঠামো পরে রয়েছে। বাগবাজারের জগৎ মুখার্জি পার্ক প্রায় একমাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ। আর এই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাগবাজারের বাসিন্দা রজত সেন শনিবার এই নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকার অনেকেই শরীর চর্চার জন্য পার্ক ব্যবহার করে থাকেন। পুজো মিটে গিয়েছে প্রায় এক মাস হল। কিন্তু এখনও পার্ক থেকে মণ্ডপ সরানো হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা পার্ক ব্যবহার করতে পারছি না। পুজো কমিটির থেকে আরও বেশি দায়িত্ব আমরা আশা করেছিলাম। এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কোনও মানে নেই। কবে যে এখন প্যান্ডেল সরানো হবে জানি না।’

কলকাতার অধিকাংশ রাস্তায় বিজ্ঞাপনী ফ্লেক্স ও হোর্ডিং লাগানোর জন্য বাঁশ পোতা হয়েছিল। পুজো মিটে গেলেও এখনও তা খোলা হয়নি। আর এতেই বিরক্ত কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা। উলটোডাঙা, নারকেলবাগান, শরৎ বোস রোড, আশুতোষ মুখার্জি রোড ও গলফ গ্রিনে এই ছবিই ধরা পড়েছে। কবে এখন মণ্ডপ খোলা হয় সেটাই এখন দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version