ছোট থেকেই মাতৃ হারা ছেলেটা। ছোট থেকেই বাবা ঠাকুমার কাছে মানুষ। কিন্তু আজ পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছে বছর ১৪-এর রাজ হালদার যেন মধ্যমণি হয়ে উঠেছে। তাঁর হাতে প্রাণ পেয়েছে জগদ্ধাত্রী মাতৃ প্রতিমা। নিজের মায়ের অভাব পূরণে মৃন্ময়ী মায়ের রূপ গড়ে তুলেছে ছেলেটি।

কী জানা যাচ্ছে?

সোদপুর নাটাগর মহেন্দ্রনগর কল্যাণসমিতি ক্লাব এলাকার প্রায় ১০০ টি পরিবার আজ একত্রিত হয়ে মেতে উঠেছে উৎসবের আনন্দে। যার কারণ বছর ১৪ রাজ হালদারের নিজের হাতে তৈরি জগদ্ধাত্রী প্রতিমা। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় পুজো করার মতো বড় জায়গা নেই। দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর আগে গড়ে ওঠা এই এলাকায় দুর্গাপুজো ও কালীপুজো হলেও, হতো না জগদ্ধাত্রী পুজো। আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রতিবেশী শিশুর হাতে তৈরি এই জগদ্ধাত্রী প্রতিমার পুজো ঘিরে যেন সকলেই মেতে উঠেছেন আনন্দে।

কী জানাল পড়ুয়া?

নবম শ্রেণির পড়ুয়া রাজ হালদার জানায়, কোনরকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই প্রতিমা গড়ার ইচ্ছা থেকে, জগদ্ধাত্রী প্রতিমার রূপ দিয়েছে সে। আর নিজে হাতে তৈরি প্রতিমাই খড়ের বিচুলি দেওয়া ছোট্ট প্যান্ডেল করে সেখানে পুজো করছে রাজ নিজে। পাড়া প্রতিবেশীরাই এগিয়ে এসে পাশে দাঁড়িয়েছে ছোট্ট এই মা না থাকা শিশুটির কর্মকাণ্ড দেখে। সকলে মিলে আলো দিয়ে সাজিয়ে, এমনকি গান বাজিয়ে প্রতিদিন ফলমূল প্রসাদ চড়িয়ে চলছে পুজো। সকলে একত্রিত হয়ে নানা প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করছে মহেন্দ্রনগর এর ছোট্ট এই এলাকার বাসিন্দারা।

আর সবটাই রাজের এই প্রতিমা তৈরি ও এলাকার কচিকাঁচাদের সঙ্গ দিতে। এদিন দেখা গেল পুজো উপলক্ষে এলাকাবাসীদের উদ্যোগে রীতিমতো সকলে মিলে খিচুড়ি প্রসাদ রান্না করা হয়েছে। এলাকার ছেলের এই প্রতিভাকে স্বীকৃতি দিতে এবার থেকে প্রতিবছরই রাজের হাতে তৈরি জগদ্ধাত্রী প্রতিমা পুজো করা হবে বলেও দাবি করা হয়

Jagadhatri Puja 2023 : রোগীর প্রাণ বাঁচানো হাতেই তৈরি মায়ের মৃন্ময়ী রূপ, ‘ডাক্তারবাবু’র পুজোয় হাজির মন্ত্রীও
স্থানীয়রা কী বলছেন?

স্থানীয় কনিকা বিশ্বাস, সবিতা সাহা দের মত স্থানীয়দের তরফে। শত কষ্টের মধ্যে থেকেও যে আনন্দ খুঁজে নেওয়া যায়, তা এই সোদপুর মহেন্দ্রনগর কল্যাণসমিতি ক্লাব এলাকায় না আসলে বোঝাই যাবে না। আর এখন এই জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে যেন উৎসবের চেহারা গোটা এলাকায়। ছোট রাজুর হাতে গড়া প্রতিমা পুজো করা হবে প্রতি বছরই। পরে আরও ধুমধাম করে এই পুজো হবে বলে জানালেন স্থানীয়রা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version