উৎকণ্ঠায় ছিল পরিবার
উত্তরকাশীর সিল্কিয়ারা টানেলে গত ১৭ দিন ধরে আটকে থাকা ৪১ জন শ্রমিক অবশেষে উদ্ধার হয়। র্যাট হোল মাইনিং পদ্ধতিতে গর্ত খুঁড়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছয় উদ্ধারকারীরা। দেশবাসীর উৎকন্ঠার অবসান হয়েছে গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার। ছেলেরা টানেল থেকে বেরিয়ে আসছে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন হুগলির পুরশুড়ার জয়দেব প্রামাণিকের পরিবার। হুগলির পুরশুড়ার হরিনখোলা গ্রামের জয়দেব গত ১২ তারিখ উত্তরকাশীতে সুরঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আটকে পড়ে। তখন থেকেই উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় দিন কেটেছে সবার।
ছেলে বেরিয়ে আসার খবরে আনন্দ
অবশেষে মঙ্গলবার ৭.৫৮ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। প্রথম একজন শ্রমিক মাইক্রো টানেল থেকে বেরিয়ে আসতেই চোখ মুখ পাল্টে যায় পরিবার পরিজনদের। এক প্রকার নাওয়া৬খাওয়া ভুলে গিয়েছিল পরিবারের লোকজন। অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন জয়দেবের মা। কীভাবে দীর্ঘ ১৭ দিন অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় দিন কাটিয়েছে তাঁদের ছেলে তা ভাবতেই উৎকণ্ঠা বাড়ে পরিবারের। যদিও শেষমেষ উদ্ধার হয় তাঁরা সকলেই। হাসি ফোটে পরিবারের মুখে। মঙ্গলবার সকালে বাজারে গিয়ে মুরগির মাংস কিনে আনে জয়দেবের বাবা তপন প্রামাণিক। আজ তিনি নিজের হাতেই মাংস রান্না করছেন।
কী জানালেন বাবা?
জয়দেব বাবা তপন প্রামাণিক জানান, দীর্ঘ ১৭ দিন বাড়িতে হাড়ি চড়েনি খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। স্ত্রীর মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। যদি প্রতিবেশীরা খাবার কথা বলেছিল কিন্তু যেখানে ছেলে আটকে রয়েছে আমরা বাবা মা হয়ে খাবো কী করে? ছেলে গতকাল অন্ধকূপ থেকে বেরিয়েছে। এখন আমরা অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছি। তাই আজ সকালে বাজারে গিয়ে মাংস এনেছি, ছেলেটা মাংস খেতে ভালোবাসে। যদিও ছেলে এখনও বাড়ি ফেরেনি হাসপাতালেই রয়েছে , সকালেই ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই বাড়ি ফিরবে। তখনো আমি ছেলেকে নিজের হাতে মাংস রান্না করে খাওয়াবো।
মায়ের মুখে হাসি
জয়দেবের মা তপতী প্রামাণিক জানান, সকালেই ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে, তবে সেই রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা এখনও কিছু জানাইনি। কয়েকটা দিন খুব উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে কেটেছে গতকাল ছেলের সঙ্গে কথা বলে এখন অনেকটাই স্বস্তি।