এই সময়, শিলিগুড়ি: বেইলি ব্রিজ তৈরি করে লাচেনের সঙ্গে মঙ্গনের যোগাযোগ তৈরি হতেই উত্তর সিকিমের লাচুং পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হল। বুধবার উত্তর সিকিমের জেলাশাসক হেমকুমার ছেত্রী এক নির্দেশিকায় জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে পর্যটকেরা উত্তর সিকিমের লাচুংয়ে বেড়াতে যেতে পারবেন। তবে আপাতত পর্যটকেরা দু’দিনের বেশি সেখানে রাত্রিবাসের অনুমতি পাবেন না। লাচুংয়ে যেতে হবে সাঙ্কালান-টুং-চুংথাং রুট ধরেই। অন্য কোনও রুট দিয়ে যাতায়াত করা যাবে না। পর্যটকদের এই ব্যাপারে গাইড করার জন্য পর্যটন ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দিয়েছে মঙ্গন জেলা প্রশাসন।

না থুলা, ছাঙ্গুর মতো উত্তর সিকিমের লাচুংয়ে যেতে হলেও সিকিম রাজ্য প্রশাসনের অনুমতি বাধ্যতামূলক। গত অক্টোবরে সিকিমের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উত্তর সিকিম পুরোপুরি বিধ্বস্ত হওয়ার পরে সেখানে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে শারদোৎসব কিংবা দীপাবলীতে পর্যটকেরা না থুলা, ছাঙ্গু কিংবা পেলিংয়ে যেতে পারলেও লাচুং কিংবা লাচেন ছিল অগম্য। পুজোর মরসুমেই অবশ্য সেনাবাহিনীর সাহায্য নিয়ে রাজ্য সরকার লাচুংয়ে যোগাযোগ পুনরুদ্ধার করে। মঙ্গলবার লাচেনও খুলে দেওয়া হয়। এ বার ১ ডিসেম্বর থেকে লাচুংয়ে বেড়ানোর অনুমতি দেওয়ায় বড়দিনের ছুটিতে উত্তর সিকিমে ভিড় বাড়বে বলে আশাবাদী পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

সিকিম রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বড়দিনের ছুটির আগে লাচেনও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। চুংথাং থেকে লাচেনে যাওয়ার বেইলি ব্রিজ তৈরি হলেও যাতায়াতের রাস্তার হাল এখনও পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। সেই কারণে এখনই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে বড়দিনের ছুটির আগেই অনুমতি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি পর্যটন ব্যবসায়ীরাও।

ইস্টার্ন হিমালয়ান ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সন্দীপন ঘোষ বলেন, ‘লাচুং যখন খুলে দেওয়া হয়েছে, তখন লাচেনও দ্রুত খুলে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।’ হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘লাচুং খুলে দেওয়াটা সবচেয়ে জরুরি ছিল। কেননা, পর্যটকদের কাছে লাচুংয়ের আকর্ষণ বেশি। তবে লাচেন দ্রুত খুলে দেওয়া সম্ভব হলে উত্তর সিকিমের পর্যটন ফের চাঙ্গা হয়ে যাবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version