কেন্দ্রীয় হারে DA-র দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই করে যাচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশ। স্যাট, হাইকোর্ট হয়ে আপাতত এই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট দাবি করেছেন, DA বাধ্যতামূলক নয়, ঐচ্ছিক বিষয়।

আর এই মন্তব্যের পরেই নতুন করে DA আন্দোলনের পালে হাওয়া লেগেছে। DA আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা তাঁরা কোনওভাবেই আইনি লড়াই থামাবেন না। কিন্তু, এরই মধ্যে রাজ্য শাসক দলের একাংশের প্রশ্ন, সরকারি কর্মীদের নিয়োগপত্র বা সার্ভিস রুলে কি কোথাও DA প্রসঙ্গ উল্লেখ রয়েছে?

এই মর্মে কি বলছেন আন্দোলনকারীরা? বিষষটি নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক DA আন্দোলনকারীর কথায়, ‘নির্দিষ্ট করে DA প্রসঙ্গ নিয়োগপত্র বা সার্ভিস রুলে উল্লেখ নেই। কিন্তু, পে কমিশনের সুপারিশে সমস্ত ভাতার কথা উল্লেখ রয়েছে। DA বিষয়টি স্থির নয়। মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তা নির্ধারিত করা হয়।’

অপর এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সরকারি যে নিয়োগপত্র আমরা পেয়েছিলাম তাতে উল্লেখ নেই। কিন্তু, DA যে সরকারি কর্মীদের পাওয়া, তাতে স্বীকৃতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (SAT)-এর রায়ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের পক্ষে গিয়েছে। সেক্ষেত্রে এই নিয়ে দ্বিমতের কোনও জায়গাই থাকতে পারে না।

অন্যদিকে, এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করছেন রাজ্য শাসক দলের নেতাদের একাংশ। তাঁদের কথায়, ‘নিয়োগপত্র বা সার্ভিস রুলে কোথাও DA প্রসঙ্গ উল্লেখ নেই। রাজ্য সরকার ৬ শতাংশ DA-র কথা ঘোষণা করেছে। সেক্ষেত্রে কোনওভাবেই তা আবশ্য়িক বিষয় বা নির্দিষ্ট কোনও হারে দিতে হবে এই বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত নয়।’

যদিও রাজ্য সরকারি কর্মচারি পরিষদের সভাপতি দেবাশিস শীল বলেন, ‘আমরা AICPI অনুযায়ী DA দেওয়ার কথা বলছি। পে কমিশনের যে সুপারিশ রয়েছে সেখানেই যাবতীয় ভাতা সম্পর্কিত বিষয় তথ্যের কথা উল্লেখ রয়েছে। এরপর সেই মোতাবেক সমস্ত সরকার তা দিয়ে থাকেন। আমরা কলকাতা হাইকোর্টে মামলাটি জিতেছি। সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয়, সেই দিকে তাকিয়ে রয়েছি। তবে আমরা আশাবাদী।’

উল্লেখ্য, DA প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের হারে DA চাইলে কেন্দ্র সরকারের চাকরি কেউ করতেই পারে।’ পাশাপাশি রাজ্য এবং কেন্দ্রের ছুটির ব্যবধান প্রসঙ্গও টানেন তিনি। তবে DA আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা আন্দোলন জারি রাখতে চলেছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version