সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রস্তাবিত ইস্পাত কারখানার স্থান বদল নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজ্যজুড়েই। গত সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নবান্ন। জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় (ব্লকে) শিল্প গড়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমকে ১ টাকা মূল্যে ৩৫০ একর জমি লিজ দেবে রাজ্য সরকার।

এখন অবধি জোর কানাঘুষো , গড়বেতা-৩ ব্লকের প্রয়াগ ফিল্মসিটিতে হতে পারে কারখানা। এই নিয়ে যদিও নিশ্চিতভাবে কিছুই জানা যায়নি। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদেরি সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘এই নিয়ে এখনও অফিসিয়াল কমিউনিকেশন কিছু হয়নি।’ বিডিও দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘ এই নিয়ে এখনও অবধি আমরাও কিছু জানি না।’ যদিও ব্লকের এক কর্তা মানছেন, সম্প্রতি ওই এলাকা এবং তার আশেপাশে মাপজোকের কাজ হয়েছে।

তবে জল্পনার মাঝে মুখে হাসি গায়েব হয়েছে শালবনীর জিন্দলদের কারখানা সংলগ্ন মানুষদের। ২০০৭-০৮ সালে জিন্দলদের প্রস্তাবিত ইস্পাত প্রকল্প ঘিরে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল শালবনী। ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর জিন্দালদের তরফে জানানো হয়, প্রকল্পের কাজ আপাতত স্থগিত করা হল। একে একে স্বপ্নভঙ্গ হয় সকলের। এই পরিস্থিতিতে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে সজ্জন জিন্দাল জানান, তাঁরা এখানে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবেন। সিমেন্ট কারখানায় ওই টাকা বিনিয়োগ করা হবে। ২০১৮ সালে সেই কারখানার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তারপরেও খালি পড়ে থাকে বিশাল জমি। বাম জমানায় শালবনীতে জিন্দল গোষ্ঠীকে প্রায় ৪১০১.৯৭ একর জমি দেওয়া হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত তার ৮৪৯.০২ একরে তৈরি হয়েছে সিমেন্ট কারখানা।

রঙের কারখানা গড়ার কাজও শুরু হয়েছে। তবু অর্ধেকেরও বেশি জমি পড়ে। সম্প্রতি সৌরভের কথাতেই ইঙ্গিত মেলে, তাঁর সংস্থা ইস্পাত কারখানা জিন্দলদের ‘অব্যবহৃত’ জমিতে তৈরি হতে চলেছে। কিন্তু নতুন করে সেখান থেকে চন্দ্রোকোণা রোডে শিল্প সরে যাওয়ার খবরে মন ভালো নেই শালবনীর একাধিক গ্রামের বাসিন্দাদের। জমি দিয়েছিলেন যাঁরা আরও হতাশ তাঁরা। তাঁদের মুখে একটাই কথা, বার বার আশা জাগিয়েও ফের একই সমস্যা। জমিদাতা সংগঠনের নেতা পরিষ্কার মাহাতো বলেন, ‘সত্যিই এবার অসহায় লাগছে। ভেবেছিলাম, এতদিনে একটা ভালো খবর আমরা পেয়েছি। কিন্তু এখন তো শুনছি কিছুই ওখানে হবে না।’

Sourav Ganguly : সৌরভের কারখানা সরছে গড়বেতায়? মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত ঘিরে জল্পনা
এই প্রয়াগ ফিল্ম সিটির ২০ কিলোমিটারের মধ্যেই গোয়ালতোড়ের দূর্গাবাঁধ সিড ফার্ম রয়েছে। একসময় কৃষি দফতরের অধীনে থাকলেও শিল্পতালুক গড়ার জন্য তা শিল্পন্নোয়ন নিগমকে হস্তান্তর করা হয়। ২০১৩ সালে ক্যাবিনেটে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর কৃষি দফতরের ‘নো অবজেকশান’ আদায় করে শিল্পতালুক (ম্যানুফ্যাকচারিং হাব) গড়ার কথা বলেছিলেন এক সময়ের শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তার কয়েক বছর পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই জমির কথা উল্লেখ করেই ফের টাটা, বিএমডল্বুকে গাড়ি তৈরির কারখানা করার কথা ভাবতে বলেছেন। গোয়ালতোড়বাসীও শালবনীর মানুষের মতো স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু তারপর সে জমি পড়েই ছিল। কয়েক মাস আগে সেখানে সোলার কারখানা গড়ে তোলার কাজ হয়। তাও সে কাজ চলছে ধীর গতিতে। দিলীপ মাহাতো, অনিরুদ্ধ মাহাতো বলেন, ‘তেমন কিছুই তো হল না। কী আর বলি। সৌরভের কারখানা তো এখানেই করা যেত।’ গড়বেতা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীনবন্ধু দে বলেন, ‘ওই কারখানা এখানে হলে যে ভালো হতো তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখানকার মানুষের যাতে ভালো হয় তা তো আমরা সব সময়ই চাই।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version