শীতকাল মানে তরতাজা সবজির মরশুম। শীতের মরশুমের সবজির জন্য আর ভরসা করতে হচ্ছে না বাজারের উপর। এবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের উৎপাদিত টাটকা সবজি দিয়েই রান্না হচ্ছে মিড-ডে মিল। এমনই চিত্র দেখা গেল ঝাড়গ্রাম সদর গ্রামীণ ব্লকের মানিকপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজাবাসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে কিচেন গার্ডেন

বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে কিচেন গার্ডেন। সেখান থাকা গাছেই ফলছে টাটকা বেগুন, কাঁচা লঙ্কা, কুমড়ো, লাউ, বরবটি, ঝিঙে, ঢেঁড়স ফলছে সবই। সঙ্গে বাড়তি পাওনা কাঁচকলা ও সজনে ডাটা। মিড-ডে মিললে রান্নার সময় কিচেন গার্ডেন থেকে টাটকা সবজি সংগ্রহ করেন স্ব-সহায়ক দলের মহিলারা। তারপরেই তাঁরা মিড-ডে মিলের রান্না শুরু করেন।

রাজবাসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮০ জন পড়ুয়া রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিদ্যালয় শুরুর আগে, টিফিন টাইমে ও ছুটির পর বাগানের পরিচর্যার কাজে হাত লাগায় শিক্ষার্থীরাও। গাছে সার ও জল দেওয়ার পাশাপাশি চলে পরিচর্যা। স্কুলের এই উদ্যোগে খুশি পড়ুয়াদের অভিভাবকরাও।

কী বলছেন বিদ্যালয়ের পড়ুয়া- শিক্ষিকরা?

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল পাত্র বলেন, ‘ব্লক থেকে তিন বছর আগে কিচেন গার্ডেন তৈরি করার জন্য একটি আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছিল। তারপর আমরা নিজেদের উদ্যোগে আরও অর্থ ব্যয় করে এই কিচেন গার্ডেনটি তৈরি করেছি। কিচেন গার্ডেনের পরিচর্যা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাই করে থাকেন । বিদ্যালয় ছুটি থাকলে স্ব সহায়ক দলের মহিলারা এবং গ্রামবাসীরা কিচেন গার্ডেনের দেখভাল করেন। এই বাগানের পরিচর্যার মধ্যেই শিশু মনের বিকাশ হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে পরিবেশ প্রেমের ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। একটি গাছ আমাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এখন থেকেই শিশুরা তা বুঝতে পারছে।’

বিদ্যালয়ের শিক্ষক গৌরীশংকর মাহাতো বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিনের মিড-ডে মিলের রান্নার সিংহভাগ সবজি কিচেন গার্ডেন থেকেই পেয়ে থাকি। ফলে যেমন মিড ডে মিলের রান্নায় বাইরের সবজির উপর ভরসা করতে হচ্ছে না,তার পাশাপাশি আমরা রাসায়নিক স্যার মুক্ত টাটকা সবজি পড়ুয়াদের পাতে তুলে দিতে পারছি। আমরা এতে খুশি।’

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর পড়ুয়া ইন্দ্রজিৎ মহাকুড় বলে, ‘আমরা কিচেন গার্ডেনের পরিচর্যা করি, স্কুলে আসলে আমরা সকলে গাছগুলিতে জল দিয়ে থাকি। আমাদের খুব ভালো লাগে যখন গাছে ফল হয়।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version