ক্রিসমাস কার্নিভ্যাল নিয়ে সম্প্রতি গোষ্ঠবিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল হাওড়া। শিবপুরের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি এবং হাওড়া পুরসভার প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তীর বিবাদে বন্ধ হয়ে যায় ক্রিসমাস কার্নিভ্যাল। এমনকী মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সামনে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন মনোজ ও সুজয়। রবিবার ফের একবার হাওড়ার রাজনীতিতে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। নেপথ্যে তৃণমূল নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে হাওড়ার সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেছেন তিনি।

কী ঘটনা?

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের আগে হাওড়ার ডোমজুড় থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী হন রাজীব। ২০২১-এ বিজেপিতে যোগদানের পর ডোমজুড় থেকে পরাজিত হন রাজীব। তৃতীয়বারের জন্য রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর ফের ‘ঘর ওয়াপসি’ হয় রাজীবের। তারপর থেকে তাঁকে হাওড়ায় দলীয় মঞ্চে দেখা যায়নি। রবিবার প্রায় দু’বছর পর হাওড়ায় পা রাখেন রাজীব। সাঁকরাইলে একটি দলীয় সভায় যোগ দেন তিনি।

১৫ নভেম্বর একটি সভা থেকে রাজীবকে হাওড়ায় ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন প্রসূন। রবিবার সাঁকরাইলের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নাম না করে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী। এমনকী তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রাজীব বলেন, ‘কে এমন কথা বলেছেন আমার জানা নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক। তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে কতটা ভালবাসেন, তা খোঁজখবর নিলেই জানতে পার যাবে। যে বলেছে, তাঁর কতটা গ্রহণযোগ্যতা আছে এটা জানা দরকার।’ এদিন সাঁকরাইলের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্থানীয় বিধায়ক প্রিয়া পাল। কিন্তু রাজীব আসার আগেই তাঁরা অনুষ্ঠান মঞ্চ ছেড়ে চলে যান।

কী বলছিলেন প্রসূন?

হাওড়া ক্রিসমাস কার্নিভ্যাল নিয়ে দ্বন্দ্বের পর ফের রাজীব-প্রসূন বাকযুদ্ধ নিয়ে ফের নতুন করে সরগরম হাওড়ার জেলা রাজনীতি। ১৫ নভেম্বরে রবিবার হাওড়া ডুমুরজলায় ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান থেকে নাম না করে রাজীবকে কটাক্ষ করেন প্রসূন। তিনি বলেন, ‘কিছু লোক আছে যাঁরা ঠিক নির্বাচনের আগে দল ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। সেই সব লোক হাওড়ায় ঢুকতে পারবে না। হাওড়ায় ঢুকতে দেব না।’

প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ডোমজুড়ের বিধায়ক ও হাওড়া সদরের জেলা সভাপতি কল্যাণ ঘোষ বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী সাঁকরাইল হাওড়া গ্রামীণের মধ্যে পড়ে। সেই কারণে এই নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version