দু’দিন সময় দিলাম। না হলে, জন জাগরণ আন্দোলন শুরু হবে – কার্যত দলের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। উল্লেখ্য, ৭ জানুয়ারি বিস্ফোরক কিছু ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছিলেন হুগলি জেলার বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। তবে কার্যালয় ভেঙে দেওয়ার কারণে ফেসবুক লাইভ করা যাচ্ছে না বলে জানান ব্যাপারী।

গত বুধবার রাতে বলাগড়ে তৃণমূল বিধায়কের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয় তৃণমূল যুব নেত্রী রুনা খাতুনের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন মনোরঞ্জন। পালটা, মনোরঞ্জনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন রুনা। থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন রুনা। রবিবার ফের রুনা খাতুনের বিরুদ্ধে ঝাঁঝালো আক্রমণ করেন মনোরঞ্জন।
মনোরঞ্জন যুব নেত্রীকে নিশানা করে বলেন, ‘দলীয় কার্যালয় ভাঙা হল দলীয় সদস্যকে মারা হল, ঘর দুয়ার ভাঙা হল অথচ দল তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এ থেকে বোঝা যায় তাঁরা কত শক্তিমান! কীভাবে বলাগড় জুড়ে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে- যে সবাই তাদের ভয় পাচ্ছে!’

যুব নেত্রীর বিরুদ্ধে তাঁর বক্তব্য, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অনুগত মানুষ, যারা আমার সঙ্গে আছেন তাদের ওই ফুলন দেবী আর তাঁর স্বামী, কিছু পোষা গুন্ডা, তাদের সামনে – সেই হিংস্র হায়নার সামনে ফেলে কিছুতেই পালাবো না। আমি লড়ছি আর আগামী দিনেও অবশ্যই লড়াই করব।’


তবে দলের যুব নেত্রীর বিরুদ্ধে হুংকার ছাড়ার পাশাপাশি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে এদিন সময়সীমা বেধে দেন তিনি। মনোরঞ্জন জানান, দলের দিকে তাকিয়ে দেখব আর একটা-দুটো দিন। সঠিক বিচার না পেলে তারপর দলমত নির্বিশেষে সমস্ত সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করব বলাগড় বাঁচাও, দুস্কৃতী হঠাও জনজাগরণ আন্দোলন। তৈরি থাকুন! সতেরোটা অঞ্চল জুড়ে পদযাত্রা করব। থানার সামনে, বিডিও আফিসের সামনে বিক্ষোভ হবে। হবে প্রতিকি চাক্কা জ্যাম। গ্রেফতার বরণ। এটাই আমার সেই এসপার -ওসপার লড়াই হবে।

Manoranjan Bapari : কুরুচিকর ভাষা লিখে লেখকের বোধোদয়! ক্ষমা চাইলেন বিধায়ক মনোরঞ্জন, থানায় তৃণমূল নেত্রী
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ফেসবুক দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মনোরঞ্জন। এর পালটা বলাগড়ের নিজের দলীয় কার্যালয় এসে ফেসবুক লাইভ করার চ্যালেঞ্জ মনোরঞ্জনকে ছুঁড়ে দেন স্থানীয় যুব নেত্রী রুনা খাতুন। বিবাদ এখানেই শেষ হয়নি। সেদিন রাতেই কুরুচিকর ভাষায় রুনাকে আক্রমণ করেন মনোরঞ্জন। পরের দিন বলাগড়ের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। সেদিনই কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহারের জন্য বলাগড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন রুনা। দলের তরফে বলাগড়ে আপাতত কিছুদিন যেতে বারণ করে দেওয়া হয় মনোরঞ্জনকে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version